খাসখবর জাতীয় ডেস্কঃ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সাংবাদিকরা যদি বিসিএস পরীক্ষা দিতেন, তারাও সচিব হতে পারতেন। অনেকে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিয়েও সাংবাদিকতা করেন। অনেক সাংবাদিক বলেন, তারা সাংবাদিকতা করেন বলে তাদের কাছে অনেক বাবা মেয়ে বিয়ে দিতে চান না। এটা সত্য, তবে আমি রাজনীতি করি বলে আমার দুই-তিনবার বিয়ে ভেঙেছে। প্রত্যেকটি পেশায়ই চ্যালেঞ্জ আছে। সাংবাদিকতায়ও রয়েছে।’
সোমবার(৩০ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে জীবন হারাতে হয়, অনেক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। তবুও তারা সংবাদটি করেন। তাদের স্যালুট জানাই।’
‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মনে করে গণমাধ্যমের বিকাশের সাথে রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ নিহিত উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেকারণেই বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে গত সাড়ে ১৩ বছরে সংবাদপত্র, বেতার, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিটি ক্ষেত্র যুগান্তকারী বিকাশ লাভ করেছে। একইসাথে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও আইনবিরোধী চর্চা কমে এসেছে।’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম ও ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’-এর জুরি বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান।
দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, ‘আগামী বছর ২৫ জন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। আর তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে ১০ লাখ টাকা। প্রতিবছরই এই আয়োজন করবে বসুন্ধরা গ্রুপ।’
এসময় তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও স্ট্রং জুরিবোর্ড গঠন করা হবে। সাংবাদিকদের মানোন্নয়নের সবধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ গণমাধ্যমের উদ্যোগ গ্রহণের পর সাংবাদিকের মান উন্নয়ন হয়েছে।’
উল্লেখ্য, দেশের গণমাধ্যমে গত বছর প্রকাশিত ও প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিচার বিশ্লেষণ করে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১১ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সাংবাদিকতা প্রসারে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিটি জেলা থেকে একজন করে ৬৪ জন প্রবীণ ও গুণী সাংবাদিককে দেয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা।
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ১১জন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা, মফস্বল সাংবাদিকতায় ৬৪ জন প্রবীণ সাংবাদিক প্রত্যেককে এক লাখ টাকা ও সকলকে সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
এর মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ঘিরে সাংবাদিকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। কারা পাচ্ছেন বহুল প্রতীক্ষিত এই পুরস্কার-এ নিয়ে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ঢাকার সাংবাদিকরা ছাড়াও মফস্বল থেকে প্রচুর প্রতিবেদন জমা পড়ে। পুরস্কারের পুরো প্রক্রিয়াটি হয়েছে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক মানের জুরি বোর্ড।
চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা বুবলির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে ডেইলি স্টারের আহমাদ ইশতিয়াক, মাছরাঙা টেলিভিশনের কাওসার সোহেলী, জাগো নিউজ ২৪.কম-এর সালাহ উদ্দিন জসিম, অপরাধ ও দুর্নীতি ক্যাটাগরিতে দেশ রূপান্তরের শোয়েব চৌধুরী, জিটিভির জান্নাতুল ফেরদৌসী, নিউজ বাংলা২৪.কম-এর জেসমিন পাপড়ি, নারী ও শিশু ক্যাটাগরিতে সমকালের রাজীব আহাম্মদ, আনন্দ টিভির শওকত সাগর, ঢাকা পোস্টের আদনান রহমান, অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে মাছরাঙা টেলিভিশনের মাজাহারুল ইসলাম এবং আলোকচিত্রে প্রথম আলোর দীপু মালাকার পুরস্কার গ্রহণ করেন।
পুরস্কারের জুরিবোর্ডে ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, দৈনিক দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব, লেখক নাসির আলী মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার ও সাংবাদিক জুলফিকার আলি মানিক।
খখ/মো মি


