খাসখবর বিনোদন ডেস্কঃ ভারতের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্দন ওরফে কেকে আর নেই। তিনি মঙ্গলবার (৩১ মে) রাত সাড়ে ৯টায় কলকাতার একটি হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার কলকাতায় গুরুদাস কলেজের এক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন কেকে। সেখানে গান গাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি হোটেলে চলে যান। পরে সেখান থেকে কলকাতা সিএমআরআই হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই এ শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তার। আকস্মিক মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, গায়ক অনুপম রায় আমাকে ফোন করে বলেছিলেন যে, তিনি হাসপাতাল থেকে খারাপ কিছু শুনতে পাচ্ছেন। এরপর হাসপাতালে যোগাযোগ করি। তারা বলেছে, তাকে মৃত অবস্থায় আনা হচ্ছে। তারপর হাসপাতালে ছুটে যাই।
শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে গেছেন সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অনু্ষ্ঠানের আয়োজক তোচন ঘোষ কেকে-কে কলকাতায় নিয়ে আসেন। বুধবার তার আরও একটি শো করার কথা ছিল।
কেকের মৃত্যুর খবর ফেসবুকে প্রথম জানান অমিত কুমারের স্ত্রী রিমা গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে শোকের ছায়া নেমে আসে অনুরাগী মহলে। সুরের শহর কলকাতা শিল্পীর গানের শেষ সাক্ষী হয়ে রইল।
কেকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কেকের মৃত্যুতে শোকের ছাড়া নেমে এসেছে ভারতের সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে। গত তিন দশকে ভারতীয় সংগীত প্রেমীদের বহু হিট গান উপহার দিয়েছেন কেকে। তার ছেলেবেলা কাটে নয়াদিল্লিতে। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে। পরে তিনি পা রাখেন বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায়।
১৯৯৭ সালে ‘হম দিল দে চুকে সনম’ ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করেছিলেন কেকে। ১৯৯৯ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘পাল’ প্রকাশ পায়। এরপর ‘কেয়া মুঝে পেয়ার হ্যায়’ (কেকে), ‘দিল কিউ ইয়ে মেরা শোর কারে’, ‘জিন্দেগি দো পাল কি’ (কাইটস), ও ‘তুনে মারি এন্ট্রিয়া’ (গুন্ডে) মতো অসংখ্যা গান গেয়ে মুগ্ধ করেছিলেন সংগীত প্রেমীদের। তিনি হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালাম, গুজরাটি ভাষায় গান গেয়েছিলেন।
খখ/মো মি


