খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্কঃ অবশেষে সিএমপির বন্দর থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়লো শিশু ধর্ষক ও খুনি ওসমান হারুন মিন্টু। নগরীর বন্দর থানাধীন পোর্টকলোনি এলাকায় মাত্র ২০ টাকার বিরিয়ানির লোভ দেখিয়ে সুরমা নামের ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রিক্সাচালক মিন্টু।
এঘটনাটি ঘটায় ১৮ সেপ্টেম্বর পোর্ট কলোনির ৮ নম্বর সড়কের একটি পরিত্যক্ত ভবনের নিচে। এরপর প্রায় মাসখানেক নানা কৌশলে আত্মগোপনে থাকে ঘটনার মূল আসামি ঘাতক এই রিক্সাচালক । পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বুধবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ডবলমুরিং থানার বেপারীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওসমান হারুন মিন্টুকে। ঘাতক
মিন্টু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরসভার মৃত আজম আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সে চট্টগ্রাম নগরীতে রিকশা চালাতেন।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পোর্ট কলোনির ৮ নম্বর সড়কের একটি পরিত্যক্ত ভবনে থেকে শিশু সুরমার মরদেহ উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে (১৩ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত ১৮ সেপ্টেম্বর বন্দর থানার পোর্ট কলোনির একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে শিশু সুরমার মরদেহ উদ্ধার করি। এরপর এলাকার সিসি ক্যামরার ফুটেজ দেখে খুনি শনাক্ত করি। গতরাতে তার অবস্থান ছিল ডবলমুরিং থানার বেপারী পাড়ায়। সেখান থেকে তাকে আমরা গ্রেপ্তার করি।’
এদিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওসমান হারুন মিন্টু জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর হালিশহর কে ব্লক এলাকায় বিরিয়ানি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশু সুরমাকে রিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে বড়পুল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ এক দোকান থেকে ২০ টাকা প্লেটের বট বিরিয়ানি কিনে নিজে ও সুরমাকে খাওয়ান। খাওয়া শেষে পোর্ট কলোনির একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে শিশুটিকে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে খুন করে পালিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে ওসি মো. মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত মিন্টু গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯টায় হালিশহর এলাকার একটি সুপারশপের পাশ থেকে শিশু সুরমাকে রিকশায় তুলে। বড়পুলে বট-বিরিয়ানি খাওয়ায়। এরপর পোর্ট কলোনি সংলগ্ন ৮ নম্বর সড়কের মুখে পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে সুরমাকে ধর্ষণ শেষে গলায় গামছা পেছিয়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত শিশু সুরমার পিতা একজন রিকশা চালক। তারা হালিশহর এলাকায় ভাড়া থাকলেও শিশুটি বড়পোল এলাকায় ভিক্ষা করতো। ঘটনার দিন হালিশহরের একটি সুপার শপের সামনে ভিক্ষার জন্য দাঁড়িয়েছিল সুরমা। আর তখনই তাকে বিরিয়ানি খাওয়াবে বলে রিক্সায় তুলে বড়পোল মোড়ের ফুটপাত থেকে ২০ টাকা দরে দুই প্লেট বিরিয়ানিও খায় তারা। এরপর শিশুটিকে রিক্সায় করে পোর্টকলোনির দিকে চলে যায় মিন্টু। এমনটা জানান ওই বিরিয়ানি ব্যবসায়ী।
খখ/মো মি


