খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক :চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ১১ বছরের শিশু রহিমকে। হত্যার পর নির্মাণাধীন শৌচাগারে পুতে রাখা হয়। এ ঘটনায় জড়িত আজম খান ও হৃদয় নামের দুজন হত্যাকারিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর বুধবার (০৩ মে)
রাত তিনটার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন পশ্চিম মোহরা গোলাপের দোকান মাজার গেইট এলাকার নির্মাণাধীন বাড়ির রুমের মাটি খুঁড়ে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
১১ বছর বয়সী শিশু শফিউল ইসলাম রহিম ওই এলাকার সেলিম উদ্দিনের ছেলে। সে পশ্চিম মোহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, চান্দগাঁও পশ্চিম মোহরা গোলাপের দোকান চাঁন মিয়া ফকিরের বাড়ীর মৃত আবুল কালামের ছেলে মো. আজম খান (৩২) ও পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাট হামজা আউলিয়া মসজিদ এলাকার চাঁন্দ মিয়া সওদাগরের বাড়ীর মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মো. মজিব দৌলা প্রকাশ হৃদয় (২৮)।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু শফিউল ইসলাম রহিম। নিখোঁজের পর ইন্টারনেট ব্যবহার করে ওইদিনই ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। এ ঘটনায় শিশুর বাবা চান্দগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্ত প্রতিবেশী আজমকে শনাক্ত করা হয়। ওই দিনই নিখোঁজ শিশু ও আজমকে একসঙ্গে দেখা যায়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার (৩ মে) আজমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আজম খান শিশু শফিউল ইসলাম রহিমকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেখানো মতে বুধবার দিবাগত রাতে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণ এবং হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে আজমের বন্ধু মুজিবুর দৌলা হৃদয় নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শিশু রহিমকে গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে গ্রেপ্তার আজম খানের নেতৃত্বে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে
পরে সেখানকার নির্মাণাধীন একটি ভবনে নিয়ে গাছের টুকরো দিয়ে শিশুটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সেখানে একটি গর্ত করে তার মরদেহ মাটি চাপা দেয় ঘাতকেরা।
চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ইসলাম বলেন, শিশু রহিমকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে বুধবার আজমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চান্দগাঁও পশ্চিম মোহরা গোলাপের দোকানে তৌসিফের নির্মাণাধীন সেমিপাকা কলোনীর শেষের অংশের একটি রুমের শৌচাগারের মাটি খুড়ে ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যার কাজে ব্যবহৃত কাঠের বাটাম উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খখ/মো মি


