খাসখবর প্রতিবেদক, জাতীয় ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় মোখা এখন বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। শুক্রবার (১২ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় এ তথ্য জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান
এদিকে, আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে দেওয়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১১ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা এখন বাংলাদেশের দিকে আসছে। তাই সংকেত পাল্টানো হলো। এর আগে আজ সকালে ঘূর্ণিঝড় মোখা প্রবল থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
চট্টগ্রামের উপকূলীয় চার উপজেলা সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা, বাঁশখালীর পাশাপাশি ১৫টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর উপকূলীয় এলাকায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে এক হাজার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে পাঁচ লাখ এক হাজার ১১০ জনের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের নির্দেশনা মেনেই এসব আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন যাওয়া শুরু করবে। এজন্য আবহাওয়া অফিসের নির্দেশনার দিকে নজর রাখছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা।
এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা নৌ পুলিশের পক্ষ থেকেও নদী-সাগরে অবস্থানরত মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আজ (শুক্রবার) সকালে ২নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত জারির পর সদরঘাট নৌ থানার পুলিশের পক্ষে কর্ণফুলী নদী ও সাগরে অবস্থানরত নৌযান সংশ্লিষ্টদের নিরাপদ দূরত্বে চলে আসার জন্য মাইকিং করা হয়। জনস্বার্থে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নৌ পুলিশ।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. একরাম উল্লাহ জানান, হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী নদী-সাগরে কর্মরতদের সচেতনতার লক্ষ্যে এবং নদী ও সাগরে অবস্থানরত নৌযান সংশ্লিষ্টদের নিরাপদ দূরত্বে চলে আসার জন্য চট্টগ্রামের সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের নির্দেশনা মেনে নৌযানগুলো নিরাপদে নোঙর করার জন্য বলা হয়েছে। তিনটি টিমে বিভক্ত হয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাগরে ঘূর্ণিঝড় মোখার অবস্থানকালীন এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা, বাঁশখালীর
উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা গুলোতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা গুলোর প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে সচেতন করার জন্য আবহাওয়া বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে। বর্তমানে ৪ নম্বর স্থানীয় হুসিয়ারি সতর্ক সংকেত চলছে। আবহাওয়া অফিসের নির্দেশনা পেলে লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য বলা হবে।’
জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আট হাজার ৮৮০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা এলাকায় আবহাওয়া বার্তা প্রচার করছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জামসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৫৩০টি স্থায়ী এবং ৫০০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলার ফটিকছড়িতে ১১২টি, হাটহাজারীতে ১৮টি, মীরসরাইয়ে ৮৫টি, রাঙ্গুনিয়ায় ২১৭টি, রাউজানে ২টি, সন্দ্বীপে ১১৬টি, সীতাকুণ্ডে ২৫টি, বাঁশখালীতে ১২২টি, বোয়ালখালীতে ৬টি, চন্দনাইশে ৬টি, পটিয়ায় ১২৬টি, সাতকানিয়ায় ৪টি, আনোয়ারায় ৫৮টি, লোহাগাড়ায় ২৭টি, কর্ণফুলীতে ১০টি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৯৪টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। যে কোনও জরুরি প্রয়োজনে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সঙ্গে এবং জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের নম্বরে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ১৫টি উপজেলায় ত্রাণ হিসেবে চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
এদিকে, ১১ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।
খখ/মো মি


