“যারা স্যাংশন দেবে তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু কিনবো না”-প্রধানমন্ত্রী

thai foods

খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এখন আমরা বিদেশ থেকে যে জিনিস ক্রয় করি, সেখানে আমাদের শর্ত থাকবে; যারা আমাদের উপর স্যাংশন দেবে তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু কেনাকাটা করব না; পরিষ্কার কথা। কাজেই ভয়ের কী আছে? আমরা তো কারো উপর এরকম নির্ভরশীল না এখন। যেটা নিয়ে সমস্যা হয় সেটা আমরা উৎপাদন করে আমাদের সমস্যার সমাধান করতে পারি। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।’

thai foods

সোমবার (১৫ মে) বিকেলে গণভবনে সম্প্রতি ত্রিদেশীয় সফর পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

র‌্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কথা নাই, বার্তা নাই, ওমনি স্যাংশনের ভয় দেখাবে। আমরা স্যাংশনের ভয়ে বসে থাকব কেন? আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। যারা আমাদের সপ্তম নৌবহরের ভয় দেখিয়েছিল, আমরা সেটাও পার করে বিজয় অর্জন করেছি। একথা ভুললে চলবে না। আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে।’

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) আরোপে ভীত হওয়ার কোনো কারণ আছে কি না— এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কী কারণে স্যাংশন দেবে? যাদের দিয়ে (র‌্যাব) আমরা সন্ত্রাস দমন করলাম। সারা দেশ জঙ্গিবাদ জর্জরিত সেই সময়। আমাদের দেশে একটা ঘটনা ঘটল হলি আর্টিজান। হ্যাঁ, অনেকে বলেছিল এটা বাংলাদেশ একা সামাল দিতে পারবে না। কিন্তু আমাদের ২৪ ঘণ্টাও লাগেনি। সেখানে মানুষ জীবিত উদ্ধার করলাম। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের উপরও আমরা আঘাত হানতে পেরেছি। তারপর থেকে বাংলাদেশে আর তেমন কোনো বড় ঘটনা ঘটাতে পারেনি। কারণ, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এবং তারা এতো ভালোভাবে সমস্ত জিনিসটায় কাজ করেছে যে আর কোনো ঘটনা ঘটাতে পারেনি। এরপরে স্যাংশনটা কিসের জন্য? সেটাই তো আমার প্রশ্ন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী যেখানে এতো মুদ্রাস্ফীতি, যেখানে খাদ্যের অভাব— কে কতটুকু খাবার কিনতে পারবে সেটা এখন সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে উন্নত দেশে। যারা বড়লোক তাদের অসুবিধা নেই, সাধারণ মানুষের তো অনেক অসুবিধা হচ্ছে। সেদিক থেকে আমরা তো আমাদের দেশের মানুষকে অন্তত প্রণোদনা দিয়েছি। এবারে রোজার সময় তো মানুষের হাহাকার শোনা যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস থাকলে একবেলা খেয়ে থাকব। তাতে অসুবিধা নাই। আমাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, এটা-সেটা শুনতে হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়টা হলো পরের দোষ দিয়ে লাভটা কী? আমাদের দেশের কিছু মানুষই দেশের বদনাম করে। তারা যে দুর্নীতিসহ কত অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সেগুলো আমাদের সাংবাদিকরা খুঁজে বের করে না? বের করলে সেখানে অনেককেই পাওয়া যাবে? এরাই বাংলাদেশের বদনাম করবে। আমাদের দেশের লোকরাই তো বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বদনাম করে আসে। সাংবাদিকরা যদি এইদিকটা একটু নজর দেন তাহলে অনেক কিছু পাবেন, অনেক তথ্য পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও একসময় সাংবাদিকতা করেছেন। কাজেই আমার সবসময় আপনাদের প্রতি সহানুভূতি আছে। আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় আপনারাও পাশে ছিলেন, আমরাও ছিলাম।’

অবাধ-মুক্ত গণমাধ্যম ও দেশে বাকস্বাধীনতার অধিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কিছুই বলি না, তারপরও শুনতে হয়, কেউ নাকি কথা বলার স্বাধীনতাই পায় না। সারাদিন মাইক লাগিয়ে বক্ততা দিয়েও অভিযোগ তোলে কথা বলতে পারে না। আমরা নাকি ভীষণভাবে টর্চার করি। আমরা নাকি কথার মুখ বন্ধ করে রাখি।

সংবাদপত্র মালিকদের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা গালি দিল বকা দিলো বিরোধিতা করে বক্তৃতা দিলো; সব শেষে বলে কথা বলতে পারি না। সেখানে আমরা আপনাদের সংবাদপত্রের কী করতে পারব? কিছু করতে গেলে আবার ওই কথা শুনতে হবে।’ সেখানে আপনাদের (সাংবাদিক) কিছু করতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণমাধ্যম মালিক যারা সবাই কিন্তু অর্থশালী-বিত্তশালী। সেজন্য মালিকদেরও তো উচিত যে সাংবাদিকদের তারা কাজ দেয়, যে সাংবাদিকদের ব্যবহার করে; তাদের ভালো-মন্দ দেখা তাদের কর্তব্য। এক্ষেত্রে মালিকদের সঙ্গে আপনাদের যা করণী করুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটা টেলিভিশন ছিল। আমি এতগুলো টেলিভিশন বেসরকারি খাতে দিয়েছি। পত্রিকা যথেষ্ট দেওয়া হয়েছে। এখন পত্রিকার মালিক হচ্ছে সব বেসরকারি খাত। বেসরকারি ব্যবসায়ী। সেখানে যারা কাজ করেন দায়িত্বটি তো তাদেরই। এখানে সরকারের বেশি কিছু করার সুযোগ আছে কি না আমি জানি না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘কারণ মালিক যারা সবাই কিন্তু অর্থশালী-বিত্তশালী। সে জন্য মালিকদের উচিত যে সাংবাদিকদের তারা কাজ দেয়, যে সাংবাদিকদের তারা ব্যবহার করে তাদের ভালোমন্দ দেখাটিও তাদের একটা কর্তব্য। আমাদের তরফ থেকে যতটুকু করার আমরা তো করে যাচ্ছি।’

করোনাকালীন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় স্বীকার করবেন সাংবাদিকদের জন্য যতটুকু সম্ভব করে যাই। এখন যারা পত্রিকার মালিক সাংবাদিকদের জন্য তাদের দায়িত্ব আছে। আমাদের দিক থেকে আমরা যা করতে পারি করব।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দুই পাশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অতিথি হিসাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার (৯ মে) রাষ্ট্রিয় সফর শেষে সকাল ১০টার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। লন্ডন সময় ১৮টা ২০ মিনিটের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় বিমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এর আগে ২৫ এপ্রিল টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

খখ/মো মি

আগেগাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
পরেআজ থেকে শুরু হচ্ছে চবি’র ভর্তি পরীক্ষা