নৈসর্গিক পরিবেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের বনভোজন ও মিলন মেলা

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: নৈসর্গিক পরিবেশে, বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন  চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক বনভোজন ও মিলন মেলা।

thai foods

২০২৩ সালের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর রবিবার সকাল নয়টায় নগরীর কাট্টলী নিরিবিলি রিসোর্টস এন্ড পর্যটনকেন্দ্রের নিরূপমা রিসোর্টস এ বনভোজন ও মিলনমেলা সুসম্পন্ন হয়।

বনভোজন ও মিলনমেলার অভ্যর্থনা কমিটির সদস্যরা আগত অতিথিদের রজনী গন্ধা ফুল ও নাস্তার প্যাকেট তুলে দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সুচনা করেন।

এর পর শুরু হয় ফেলোশিপ আড্ডা, আলোচনা সভা ও সন্মাননা প্রদান অনু্ষ্ঠান।

চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের নির্বাহী সদস্য ও বনভোজন কমটির সদস্য সচিব কামাল পারভেজ এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিআরএফ এর সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, সহ- সভাপতি আলমগীর অপু, সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ,অর্থ সম্পাদক আইয়ুব আলী, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম,আপ্যায়ন সম্পাদক ও বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক লোকমান চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম পারভেজ, নির্বাহী সদস্য জুবায়ের ছিদ্দিকী, শাহ আজম, রেজিষ্ট্রেশন কমিটির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ রানা, অভ্যার্থনা কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দীন সাগর, সদস্য মোহন মিন্টু, ইমরান ইসলাম মুকুল, রাজিব চক্রবর্তী প্রমূখ।

চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি কাজী আবুল মনসুর তার বক্তৃতায় বলেন, অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরাম এ পর্যায়ে এসেছে। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের কলেবর বাড়ছে। প্রতি বছর আনন্দ মেলার আয়োজন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সারা বছর ব্যস্ত থাকেন। বছরের একটা দিন ফোরামের সদস্যরা এভাবে আনন্দে মেতে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, রিপোর্টারদের পেশাগত উন্নয়নের লক্ষে ফোরাম সাংবোদিকদের কর্মশালাসহ নানা আয়োজন করে যাবে। একই সাথে চট্টগ্রামের ভাষা ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কাজ করে হবে। বর্তমানে বিশ্বে ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিকতা বাড়ছে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, এখন ডিজিটাল প্লাটফর্মের যুগ। বিশ্বে সাংবাদিকতার উপর বড় বড় পুরস্কার গুলো ফ্রী-ল্যান্স সাংবাদিকরা পান। সাংবাদিকতার গন্ডি এখন অনেক বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে গেছে। এটি এখন আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি সাংবাদিকদের লেখালেখির উপর আরো জোর দিতে বলেন।

আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা বাড়াতে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

সারাদিনের এ আয়োজনে ‘টিআইবি পুরস্কার’ প্রাপ্ত একুশে পত্রিকার সাংবাদিক, সিআরএফ’র সদস্য শরীফুল ইসলাম রুকনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আলোচনা শেষে প্রীতিভোজ পর্বে
মাটির শানকিতে (বাসনে) দুপুরের সুস্বাদু খাবার পরিবেশিত হয়। এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বয়স ছাপিয়ে তরুণ যুবাদের মতো গানের তালে তালে গতিময় নাচ যেমন ছিলো দর্শনীয়, তেমন ছিলো উপভোগ্য। এদিন যেনো সবাই হারিয়ে গেছে কৈশোর, তারুণ্যে। সারাবছর গম্ভীর ব্যস্ত বাগিশ গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণে মিলন মেলাটি রূপ নিয়েছিলো প্রাণের সম্মিলনে।

খাবার নাচ-গানে সীমাবদ্ধ থাকেনি চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের বর্ণিল এ আয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সদস্যদেরকে আকর্ষনীয় শুভেচ্ছা উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

স্মৃতিময় অনিন্দ্য সুন্দর এমন আয়োজন চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীদের হৃদয়ে থাকবে বহুদিন।

খখ/মো মি

আগে“আওয়ামী লীগের ভোট চুরির প্রয়োজন হয় না”-শেখ হাসিনা
পরেবাকলিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণকালে গ্রেফতার ৪