ভারতে রেকর্ড : একদিনে শনাক্ত পৌনে ৩ লাখ,মৃত্যু ১৬১৯ জন

করোনা,আক্রান্ত,শনাক্ত,দেশে,মৃত্যু
thai foods

খাসখবর আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাস্তানাবুদ ভারত। ইতিমধ্যেই ওলটপালট করে দিয়েছে যাবতীয় হিসেব নিকেশ। দেশে দৈনিক আক্রান্ত আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে।

thai foods

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন। যা রবিবারের (১৮ এপ্রিল) থেকে প্রায় ১২ হাজার বেশি। ভারতে একদিনে আক্রান্তের এই সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

পাশাপাশি দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেড়েছে দৈনিক মৃত্যুর হারও। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৬১৯ জনের। এ সংখ্যা ভারতে একদিনে সর্বোচ্চ।

গত ৫ দিন ধরে দু’লক্ষাধিক নতুন সংক্রমণের জেরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বে আমেরিকার ঠিক পরই রয়েছে ভারত। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ছাড়িয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

রোগী বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। একই শয্যায় দু’জন রোগী শুয়ে থাকার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকটি রাজ্যে। এমনকি অক্সিজেন না পেয়ে কোভিড রোগীর মৃত্যুর খবর আসছে।

দৈনিক মৃত্যু এই পর্যায়ে চলে যাওয়ায় হাসপাতালে মর্গের বাইরে, শ্মশানে এবং কবরস্থানে দেহের সারি পড়ে থাকছে। সব মিলিয়ে যে পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে তা আগে দেখা যায়নি।

করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে বেশ কয়েকটি রাজ্যের পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই লাগামহীন হয়েছে। বাকি রাজ্যগুলির পরিস্থিতিও সেই দিকেই এগোচ্ছে।

গত বছরের মতো এ বারেও দৈনিক আক্রান্ত এবং মৃত্যু সবথেকে বেশি মহারাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৬৮ হাজারের বেশি লোক নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন সে রাজ্যে। মারা গিয়েছেন ৫১৯ জন।

এর পর রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে দৈনিক আক্রান্ত সোমবার সাড়ে ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে তা ২৫ হাজারের বেশি। কর্নাটক এবং কেরালায় তা ১৯ হাজার এবং ১৮ হাজারের বেশি।

ছত্তীসগঢ়ে অবশ্য গত কয়েক দিনের থেকে সংক্রমণ একটু কমে সাড়ে ১২ হাজারের নীচে রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে দৈনিক আক্রান্ত সোমবার ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। তামিলনাড়ু, গুজরাট এবং রাজস্থানেও দৈনিক আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে গত ক’দিনে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। বিহারে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত সাড়ে ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তা সাড়ে ৮ হাজারের একটু কম।

হরিয়ানাতেও দৈনিক আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে সাড়ে ৬ হাজার। পাঞ্জাবে তা প্রায় ৫ হাজার। তেলঙ্গানা এবং ঝাড়খণ্ডে ৪ হাজার। ওড়িষাতে দৈনিক আক্রান্ত বেড়ে সাড়ে ৩ হাজার পার করেছে।

উত্তরাখণ্ডে তা আড়াই হাজার। জম্মু ও কাশ্মীরে দেড় হাজার। গোয়া, পুদুচেরী, হিমাচল প্রদেশে গত ক’দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও তা ১ হাজারের নীচেই রয়েছে।

সংক্রমণের এই উর্ধ্বগতি রুখতে আরও এক বার লকডাউনের কড়াকড়ি ফিরিয়ে আনতে চাইছে রাজ্যগুলি। মহারাষ্ট্রে ১ মে জারি হয়েছে ‘করোনা কার্ফু’।

মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে রাত্রিকালীন কার্ফুর পাশাপাশি সপ্তাহান্তে হচ্ছে সম্পূর্ণ লকডাউন। রাজস্থানেও সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৫ দিনের লকডাউন।

তামিলনাড়ুতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে রাত্রিকালীন কার্ফু এবং রবিবার লকডাউন। বিহার, কর্নাটকের মতো রাজ্যেও রাত্রিকালীন কার্ফু জারি হয়েছে। পাশাপাশি মাস্ক পরা নিয়ে জনগণের উদাসীনতা ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনগুলি।

এ সবের মধ্যে চলছে টিকাকরণ। ৪৫ বছরের বেশি বয়সীরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকা নিচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে টিকা নিয়েছেন ১২ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৬ জন। এ নিয়ে ভারতে মোট ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৬ কোভিড টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে।

খখ/মো মি

আগেওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল রাঙ্গুনিয়ার তিন প্রবাসীর
পরেমিসরে ফের ট্রেন দুর্ঘটনা : ১১ জনের মৃত্যু-আহত শতাধিক