চট্টগ্রামে অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেফতার, ৫১ ভরি চোরাই সোনা উদ্ধার

তারা পরিত্যক্ত জিনিস কুড়ানোর আড়ালে দিনে রেকি, রাতে করে চুরি-ডাকাতি

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানা এলাকায় একটি চুরির ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি দেশি অস্ত্র, ৪টি ছু‌রি, ২টি তালা কাটার যন্ত্র ও ২টি রেঞ্চ উদ্ধার করা হয়।

thai foods

৯ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিকেল ৩টার নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকার ওয়্যার মার্কেটে প্রবেশ মুখে পাকা রাস্তায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে ডাকাত দলের এ ৬ সদস্য।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নগরীর চকবাজার থানাধীন আমিরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে চুরি হওয়া ১২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে ৫২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ছয়জন হলেন- আরিফ হোসেন মেহেদী (২৬), মো. শরীফ (২০), মেহেদী হাসান রুবেল (২৩), সাইদুল ইসলাম রিগ্যান (২২), হান্নান হোসেন (২৩) ও রিয়াদ হোসেন (১৯)।

পুলিশ জানায়, নগরীর সদরঘাট থানার একটি বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারি দায়ের হওয়া মামলায় জড়িতদের ধরতে অভিযানে নেমেছিল পুলিশ। চুরির এ মামলায় গ্রেফতার এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে মো. আরিফ হোসেন মেহেদী ওরফে মেহেদী হাসানের নাম উঠে আসে। তখন আরিফ হোসেন মেহেদীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে অভিযানে ৬ জন আসামিকে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো ছোরা, তালা কাটার যন্ত্রসহ আটক করা হয়। মূলত ওই সময় তারা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

গ্রেফতারের পর আরিফ হোসেন মেহেদী জানান, তার কাছে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার লুকায়িত রয়েছে। তাৎক্ষণিক তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ডবলমুরিং থানার বারেক বিল্ডিং মোড়ে সানাই সিনেমা হলের পেছনে কনকর্ড গ্রুপের একটি খালি জায়গায় মাটির নিচে লুকানো অবস্থায় ৫১ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণালঙ্কার তারা মেহেদীবাগের আমিরবাগ আবাসিকের এক বাসা থেকে চুরি করা বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান গ্রেফতার ছয় জনের বিষয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপ পুলিশ কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উদ্ধার স্বর্ণালঙ্কারগুলো গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজার থানার মেহেদীবাগের আমিরবাগ হাউজিং সোসাইটির একটি বাসা থেকে চুরি হয়েছিল।
এ চক্র চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের কেউ কেউ দিনে টোকাই সেজে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি রেকি করে। এজন্য তাদের আলাদা একটি টিম আছে। যেসব বাসায় লোক থাকে না কিংবা নির্জন এলাকা, সেসব জায়গা রেকি করে তারা অন্য সদস্যদের জানায়। ছোট শিশুদেরও তারা এ কাজে ব্যবহার করে।’

সিএমপির কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার অতনু চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতার আরিফ হোসেন মেহেদী উদ্ধার করা ৫২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ঢাকা থেকে চুরির করেছে বলে প্রথমে দাবি করে। তবে আমিরবাগ হাউজিং সোসাইটি থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের ছবির সঙ্গে মেলানোর পর পুলিশ নিশ্চিত হয় আরিফের দাবি সঠিক নয়, স্বর্ণালঙ্কারগুলো তারা আমিরবাগ থেকেই চুরি করেছে।

এসি অতনু চক্রবর্তী আরও জানান, পরে আরিফ হোসেন মেহেদী আমাদের কাছে আমিরবাগে চুরির কথা স্বীকার করে। সে জানায়, চুরির আগে শরীফ কাগজ ও প্লাস্টিকের বোতল কুড়ানোর ভান করে ওই বাসায় গিয়ে রেকি করে। তার কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে চুরি সংঘটিত করে। আরিফ, শরীফ, শাকিল ও পিচ্চি জাহিদ মিলে চুরি করে। এদের মধ্যে শাকিল চুরির পরদিনই মাদকের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়। পিচ্চি জাহিদ এখনও পলাতক। আরিফ ও শরীফকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এ চক্রের গডফাদার মনির ও তারেক। তাদের দু’জনকে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছে।’ আরিফ ও শরীফ ছাড়া গ্রেফতার বাকি চার জন সংঘবদ্ধ ওই চক্রের সদস্য হলেও তারা আমিরবাগে চুরির ঘটনায় জড়িত ছিল না বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানায়, চকবাজার থানাধীন আমিরবাগে চুরির পর আরিফ চট্টগ্রামের বাইরে চলে যায়। বৃহস্পতিবার সে চট্টগ্রামে ঢোকার তথ্য পেয়ে পুলিশ তাকে ধরতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। এক পর্যায়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার নামে নামে বন্দর, ইপিজেড, ডবলমুরিং ও হালিশহর থানায় ১০টিরও বেশি চুরির মামলা আছে। শরীফের নামে দুটি অস্ত্র মামলা রয়ছে।

সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফেরদৌস জাহান বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তাদের শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

খখ/মো মি

আগে“সেনাদের ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার, প্রক্রিয়া চলছে”-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পরে“কারা মানুষের জন্য কাজ করেছেন তা যাচাই হবে”-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা