খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের নানা এলাকায় নিয়মিত ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। অতিভারি বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে নেত্রকোনায় ১৯৯ মিলিমিটার। এছাড়া হবিগঞ্জে ১৮৭ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ে ১৮২ মিলিমিটার, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৩৫ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টির কারণে কমে আসতে পারে গরম। তবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে দুর্ভোগের শঙ্কাও রয়েছে।
এরইমধ্যে মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে দেশের নদীবন্দরের জন্য দেয়া সতর্কবার্তায় বুধবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় (৪৫-৬০) কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অপর এক বার্তায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগামী সাত দিন অতিভারি বর্ষণ হতে পারে সিলেট ও এর আশপাশের এলাকায়। এছাড়া উজানে বিশেষ করে মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচলে অর্থাৎ ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা বেসিনে বৃষ্টি বাড়ছে। তিস্তা বাঁধ এলাকায়ও বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের এ প্রবণতা থাকতে পারে আরও এক সপ্তাহ। এ কারণে সিলেটবাসীর জন্য আপাতত কোনো সুখবর নেই। বরং ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে তাদের।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় আবহাওয়া বিভাগ জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এ সময় মাদারীপুর, পাবনা, খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজমান থাকতে পারে।
বুধবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এসময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান তাপপ্রবাহ কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
আজ সন্ধ্যা নাগাদ আগের গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী ও চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
খখ/মো মি


