পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাতুন্নেসা তাহমিনা আকতার, এ টি আহমেদুল হক ও ইকরাম আহমেদের গাড়িচালক ছিলেন আবেদ আলী!

প্রশ্ন ফাঁসে চাকরিচ্যুত আবেদ আলী চাকরি নেন ভুয়া তথ্যে
thai foods

খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী (জীবন) প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। আবার চাকরিও নিয়েছিলেন ভুয়া তথ্যে।

thai foods

১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল চাকরিরত অবস্থায় বেপরোয়া ছিলেন আবেদ আলী। ঐ সময়ে পিএসসির সাবেক তিন জন চেয়ারম্যানের গাড়িচালক ছিলেন তিনি। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাতুন্নেসা তাহমিনা আকতার, এ টি আহমেদুল হক ও ইকরাম আহমেদের গাড়িচালক ছিলেন প্রশ্নফাঁসের মূল হোতা আবেদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, আমি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। এই সময়ে একটি প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়নি। আমি চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতা ড্রাইভার আবেদ আলী অসদচারণের কারণে চাকরিচ্যুত হন। সেটা আমি করেনি; অফিস করেছিল। আমি অফিসকে দিয়ে কাজ করিয়েছি। যাতে কোনো রকম অনৈতিক, সুবিধাবাদী ও দুর্নীতি প্রশ্রয় না পায়। আমি এটি নিশ্চিত করেছি।

পিএসসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নন-ক্যাডারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার’ নন-ক্যাডার পদের লিখিত পরীক্ষা ২০১৪ সালে ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে হলের বাইরে থেকে অবৈধভাবে সরবরাহকৃত সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরসহ চারটি লিখিত উত্তরপত্র হাতেনাতে ধরা হয়। ঐ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হয়। ঐ মামলার তদন্তে সৈয়দ আবেদ আলীর সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য-প্রমাণ মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধে বহু বেআইনি কর্মের দুর্নাম আছে, তিনি অভ্যাসগত অপকর্মে জড়িত বলেও পিএসসির ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৈয়দ আবেদ আলীর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের ডাসার হলেও পিএসসিতে চাকরি নেওয়ার সময় স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে সিরাজগঞ্জ উল্লেখ করেছিলেন। চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি সৈয়দ আবেদ আলীর স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়। সৈয়দ আবেদ আলী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পিএসিতে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন। সে সময় তিনি স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের শ্রীফলতলা গ্রামে। বাবা : সৈয়দ আবদুর রহমান। এই ঠিকানা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের গাড়িচালক পদের সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

অভিযুক্ত কর্মচারীর স্থায়ী ঠিকানাটির সঠিকতা যাচাই করে ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক পিএসসিকে জানায়, তার স্থায়ী ঠিকানাটি সঠিক নয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার তালিকায় সৈয়দ আবেদ আলী বা তার পূর্ব পুরুষদের কেউ তালিকাভুক্ত নন। অর্থাৎ সৈয়দ আবেদ আলী ভুয়া স্থায়ী ঠিকানায় চাকরি নেন। তবে সৈয়দ আবেদ আলী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম বোতলা গ্রামের মৃত আবদুর রহমান মীরের ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে আবেদ আলী তার নিজ এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। তিনি ডাসারের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে গণসংযোগ অব্যাহত রাখেন। যদিও এখনো ডাসার উপজেলার তপশিল ঘোষণা করেনি ইসি। সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর সোমবার তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ আরও বলেন, আমার সময়ে বেশ কিছু বদলি হয়েছে, চাকরিচ্যুত হয়েছে ও সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে; তার মধ্যে যেগুলো আমার জ্ঞাতসারে হয়েছে তার কোনটার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, আমার মেয়াদে একটাও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।

এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রসঙ্গে পিএসসির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বলেছেন, যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হলে পিএসসি সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। এক্ষেত্রে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সরকারি কর্ম কমিশনের যুগ্মসচিব আব্দুল আলীম খানকে। টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনটি তদন্ত কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। তারা সবটা নিয়েই তদন্ত করবে।

প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির হাতে পিএসসির দুই উপপরিচালক, এক সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন। জড়িত অন্যদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।

খখ/মো মি

আগেচট্টগ্রাম পুলিশের এডিসি কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ
পরেব্রিটেনের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক