চট্টগ্রাম পুলিশের এডিসি কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল, ফ্ল্যাট ও কোম্পানির আংশিক শেয়ারসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

thai foods

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত এই আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে সম্পদ ক্রোক ও জব্দ না করা গেলে তা হস্তান্তর হয়ে যেতে পারে। পরে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও হিসাব জব্দের আদেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, ক্রোক হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে না।

জব্দকৃত ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দেওয়া গেলেও উত্তোলন করা যাবে না। সেই মর্মে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার, এসি ল্যান্ড, বিএসইসি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে মোহাম্মদ কামরুল হাসান ৯ কোটি ৭৩ লাখ ২২ হাজার ৪৪ টাকা এবং তার স্ত্রী সায়মা বেগম ১ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৮ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায়। ১৯৮৮ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পদোন্নতি পেয়ে তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, বাঁশখালী, সিএমপির পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দিসহ একাধিক থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়িত্ব পালন করেন।

সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাবার পর তার সিএমপিতে পদায়ন হয়। তিনি সিএমপির প্রসিকিউশন শাখার সহকারি কমিশনার ও পরবর্তীতে অতিরিক্ত উপ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (অপরাধ) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার পদে আছেন।

আদালতের আদেশের বিষয়ে দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালত সমুদয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন। এ আদেশ আমাদের কাছে আসার পর আমরা সম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি দেব। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে আমরা সম্পদের রিসিভার নিয়োগের জন্য আদালতে আবেদন করবো। পাশাপাশি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের অনুসন্ধান প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে।’

২০২৩ সালের ৩১ মে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে কামরুল হাসানের সম্পদের অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৪ আগস্ট তাকে দুদক কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে দুদক কর্মকর্তা এমরান হোসেন চলতি বছরের ১৩ মে ‍দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭৩ লাখ ২২ হাজার ৪৪ টাকা এবং তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে এক কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কামরুল হাসান ও সায়মার মোট স্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৯ টাকার। এর মধ্যে আছে, চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর হালিশহরে পৃথকভাবে ৪০ শতক জমি, পশ্চিম নাছিরাবাদে শূন্য দশমিক ৩৩ শতক ও পৃথকভাবে দুই কড়া তিন সমস্ত ছয় ভাগের এক দন্ত ভিটি ভূমি, ঢাকার সাভারে ২৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি, সাভার সিটি সেন্টার এন্ড টাওয়ার নামে একটি বারো তলা ভবনের বেসমেন্টে ২২টি দোকানের সমান জায়গা যা ইনফিনিটি মেগামল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেয়া হয়েছে, প্রথম থেকে চতুর্থ তলায় ছয়টি দোকান এবং এর ওপরে সাতটি ফ্ল্যাট।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে আরও আছে, নগরীর খুলশী মৌজায় দি চিটাগং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের আওতাধীন জমিতে নির্মিত ফয়জুন ভিলা নামে একটি ভবনে মোট ২৭০৬ বর্গফুট জায়গা, পশ্চিম নাছিরাবাদে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও পৃথকভাবে শূন্য ছয় দশমিক ৫৯ শতাংশ নাল জমি, পশ্চিম নাছিরাবাদে সাত শতাংশ ভিটের ওপর ঘর, ঢাকার সাভারের আনন্দপুরে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ নাল জমি, সাভার সিটি টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাট এবং সিডিএর অনন্যা আবাসিক এলাকায় পাঁচ কাঠার একটি প্লট।

উভয়ের অর্জিত অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে এক কোটি ৯০ লাখ টাকার। এর মধ্যে আছে, সোনালী ব্যাংকে ১৫ লাখ করে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, বাংলাদেশ ব্যাংকে ৪৫ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, সায়মা হাসানের নামে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা মূল্যের চারটি লাইটারেজ জাহাজ- এমভি প্যাসিফিক রাইডার, এমভি পানামা ফরেস্ট-১, এমভি রাইসা তারাননুম এবং বার্জ আল বাইয়েৎ।

দুদকের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর আয়ের উৎসের কোনো সঙ্গতি পাওয়া যায়নি। এখন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ‍দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার নোটিশ দেবেন।’

খখ/মো মি

আগেপ্রশ্নপত্র ফাঁস: বিসিএসে ৫০ লাখ, অন্যান্য চাকরিতে ২০ লাখ টাকা নেয়া হতো
পরেপিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাতুন্নেসা তাহমিনা আকতার, এ টি আহমেদুল হক ও ইকরাম আহমেদের গাড়িচালক ছিলেন আবেদ আলী!