খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: নগরীতে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাত হবার পরও ৪ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে ডবলমুরিং থানার দুই এসআই। এসময় তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত টাকা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র এবং ছোরা উদ্ধার করা হয়।
এঘটনায় ডবলমুরিং মডেল থানার এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম ও এসআই নজরুল ইসলামকে সিএমপি কমিশনার ১ লাখ টাকা পুরস্কৃত করেছেন।নি
এবিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডবলমুরিং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম, এসআই নজরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিশেষ অভিযান ডিউটি করাকালীন ডবলমুরিং মডেল থানাধীন বারিক বিল্ডিং মোড়ের পূর্বে পাশে সিটি গ্রুপ ল্যান্ড লিঃ এর খালি জায়গায় কতিপয় ডাকাতদল ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করে অবস্থান করার খবর পান। প্রাপ্ত সংবাদটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম, এসআই নজরুল ইসলাম এবং থানার টহল টিমের সহায়তায় উক্ত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করাকালীন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কতিপয় ডাকাত দল দিক-বিদিক পালানোর চেষ্টাকালে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করলে ১নং আসামী জাহিদুল ইসলাম (২৪) এবং পলাতক আসামীদের হাতে থাকা ধারালো টিপ ছোরা দ্বারা এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম ও এসআই নজরুল ইসলামদ্বয়কে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আঘাত করলে এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম এর বাম হাতের বাহু এবং কানে কাটা গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়। এসআই নজরুল ইসলাম এর পেটে ও পিঠে কাটা জখম এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম প্রাপ্ত হয়।
এসআইদ্বয় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পরও
সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় আসামী আবু বক্কর সিদ্দিক প্রকাশ তারেক (২৩), জাহিদুল ইসলাম (২৪), মোঃ জুয়েল (৪৫),মোঃ সাহাব উদ্দিন (৩৯) কে গ্রেফতার করেন। বাকী আসামীরা উক্ত স্থান হতে কৌশলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গ্রেফতারকৃত আসামী আবু বক্কর সিদ্দিক প্রকাশ তারেক (২৩) এর ডান হাতে থাকা অবস্থায় ১টি টিপ ছোরা, আসামী জাহিদুল ইসলাম (২৪) এর প্যান্টের সামনের ডান পকেট হতে তার নিজ হাতে বের করে দেওয়া অবস্থায় ১টি টিপ ছোরা, আসামী মোঃ জুয়েল (৪৫) ও মোঃ সাহাব উদ্দিন (৩৯) দ্বয়ের দেখানো মতে ঘটনাস্থল টিনের ছাপড়া ঘরের ভিতর রক্ষিত চৌকির নিচ থেকে আসামী মোঃ জুয়েল (৪৫) কর্তৃক নিজ হাতে বের করে দেওয়া মতে আলামত ১টি বাদামী কালো রংয়ের কাধ ব্যাগ, যার ভিতর রক্ষিত সর্বমোট দুই লক্ষ বার হাজার টাকা এবং ঘর ভাঙ্গার কাজে ব্যবহৃত ৪টি স্লাইরেঞ্জ, ২টি স্ক্রু ড্রাইভার, ১টি কাঠের হাতলযুক্ত ধারালো কাচি জব্দ করা হয়।
ধৃত আসামীরা এবং পলাতক আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জন আসামী সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল বলে স্বীকার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা হতে সকাল ৮টা মধ্যবর্তী সময়ে ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ কর্মাসিয়াল এরিয়াস্থ পাইন ভিউ বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় স্থিত “বাংলা ক্যাট” নামীয় অফিস হতে চুরি করে এবং চোরাই টাকার ভাগ ভাটোয়ারাসহ ডাকাতি সংঘটনের লক্ষ্যে উক্ত স্থানে অবস্থান করছিল। “বাংলা ক্যাট” নামীয় প্রতিষ্ঠানে চুরি সংক্রান্ত ডবলমুরিং মডেল থানার একটি মামলা (নং-১৯) রুজু হয়।
আসামীদের ধারালো ছোরার আঘাতে এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম, এসআই নজরুল ইসলাম আহত হওয়ায় তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এবিষয়ে আহত এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম বলেন, গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্যদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও অস্ত্র আইনে ডজন খানেক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা পেশাদার এবং সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা জনমনে আতংক সৃষ্টি করে জনসাধারনের বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি, ছিনতাই করে থাকে।
পুলিশ জানায়, এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম, এসআই নজরুল ইসলাম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাদারিত্বের সাথে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতদের গ্রেফতার করেন। উক্ত এসআইদ্বয় থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভারিক রাখার লক্ষ্যে সেবাকে ব্রত মনে করে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনসহ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সক্রিয় ভূমিকায় এলাকার জনসাধারণসহ সারা দেশে পুলিশের ভাবমুর্তি উজ্বল হয়েছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত গ্র্যান্ড কল্যাণ সভায় আইজিপি বাহারুল আলম উক্ত এসআইদ্বয়ের ভূয়সী প্রসংশা করেন এবং সাহসিকতার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টাস কর্তৃক পুরস্কার প্রদানের ঘোষনা প্রদান করেন।
এদিকে সিএমপির কমিশনার হাসিব আজিজের পক্ষ হতে তাৎক্ষণাৎ এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করেন।
গত ৩ মার্চ সিএমপির কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের পক্ষ হতে এসআই আহলাদ ইবনে জামিল-পিপিএম’কে পঞ্চাশ হাজার টাকা, এসআই নজরুল ইসলাম’কে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
খখ/মো মি


