খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় মো. সাজ্জাদ (২৫) নামের এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত ১টার দিকে এই গুলির ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. সাজ্জাদ (২৫) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন হিরাকান্দা এলাকার মো. আলমের ছেলে। তিনি নগরের বাকলিয়া থানার তক্তারপুল এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারে বসবাস করতেন। তিনি বাকলিয়া থানা ছাত্রদলের রাজনীতিতে ছিলেন। আহতরা হলেন- জুয়েল, সাব্বির, শরীফ, ইয়াসিন, একরাম, পারভেজ ও মারুফ; তারা সবাই বাকলিয়ার বৌবাজার এলাকার বাসিন্দা।
আহতদের মধ্যে অন্যদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তারা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক।
চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, এক্সেস রোডের ঘটনায় ১৮ থেকে ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কয়েকজনকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে, আবার কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক বলেন, মো. সাজ্জাদ নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। তার বুকে গুলির আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ আরও কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি দিয়ে টাঙানো একটি ব্যানার সরানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এর একটি পক্ষ মেয়রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত যুবদল নেতা বাদশার নেতৃত্বে ছিল। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিল বিএনপি নেতা মীর হেলালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন-বোরহান গ্রুপ। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আগে থেকেই ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম সালাউদ্দিন আসাদ বলেন, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা যুবদলের পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করছে। মেয়রের ছবি লাগিয়ে তারা ব্যানার পোস্টার ঝুলিয়েছিল। মেয়রের লোকেরা তা খোলার নির্দেশ দিলে আমাদের ছেলেরা ব্যানার খুলতে যায়। তখন তাদের তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে উদ্ধার করতে গেলে ভবনের ছাদ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়। এতে সাজ্জাদ মারা যায়।
যুবদল নেতা এমদাদুল বাদশা বলেন, অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা এত অস্ত্র কোথা থেকে পেয়েছে? তাদের অস্ত্র উদ্ধার করা হোক। গুলি করার আগে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। তারা বিএনপির কেউ নয়; আগে যুবলীগ করত। ৫ আগস্টের পর যুবদলের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করছে। এখানকার মীর হেলাল গ্রুপের কেউ ছিল না, সব মিথ্যা কথা। নিহত সাজ্জাদ ছাত্রদলের কর্মী ছিল।
তিনি আরও বলেন, সোহান, বোরহান, হীরণ, ডাকাত বাদশা— এরা গুলি করেছে। তারা মাদকাসক্ত। এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যারা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। ওসি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, রাতের মধ্যেই আসামিদের গ্রেফতার করবে বলেছেন।
নিহত সাজ্জাদের বাবা মো. আলম বলেন, আমার ছেলেকে তার বন্ধুরা ফোন করে ডেকে নিয়ে গেছে। কী নিয়ে ঝামেলা হয়েছে জানি না। আমি চাই আমার ছেলে হত্যার বিচার।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ব্যানার টাঙানো ও ব্যানার সরানো নিয়ে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এক যুবক নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।”
খখ/মো মি


