চন্দ্রিমা মুগ্ধ, খাসখবর বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন আজ ১ নভেম্বর ৫১ পেরিয়ে ৫২-তে পা দিলেন। কিন্তু বয়স তার সৌন্দর্যের দীপ্তিকে একটুও কমাতে পারেনি। অনন্য রূপ, মাধুর্য ও আত্মবিশ্বাসে তিনি এখনও নব্বই দশকের সেই ঐশ্বরিয়া—সময়ের কাছে অপরাজিত।
অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক এ অভিনেত্রীকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই যে, তার বয়স নির্দিষ্ট একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে। সৌন্দর্য, মাধুর্য আর আত্মবিশ্বাস মিলিয়ে এখনো যেন নব্বই দশকের সেই হম্বিতম্বি তরুণী ঐশ্বরিয়া রাই। বয়স বাড়ছে, কিন্তু দীপ্তি কমছে না। ঐশ্বরিয়া প্রমাণ করেছেন, সত্যিকারের সৌন্দর্য কখনো ম্লান হয় না, তা থেকে যায় চোখে ও মননে আর অনুপ্রেরণায়।

অভিনেত্রীর ৫১ পেরিয়ে গেলেও সময় যেন তাকে স্পর্শই করতে পারেনি। সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসে তিনি এখনো নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা—আইকোনিক। সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে বদলায়, কিন্তু কিছু নাম সময়কেও হার মানিয়ে দেয়। ঠিক তেমনই ‘ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন’। তার জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছার বন্যা বইছে, ভক্তরা বলছেন— ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, সময় তোমার কাছে হার মানিয়েছে।
১৯৯৭ সালে তামিল নির্মাতা মণিরত্নমের ‘ইরুভার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় ঐশ্বরিয়ার। একই বছর বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ‘ওর পেয়ার হো গয়া’ ছবির মাধ্যমে। তবে ১৯৯৯ সালের ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ‘তাল’, ‘দেবদাস’, ‘জোধা আকবর’, ‘গুরু’, ‘ধূম ২’, ‘রেইনকোট’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের নৈপুণ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল সৌন্দর্যের নয়, প্রতিভারও প্রতীক। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এ পারো চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে।

ঐশ্বরিয়া বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছাপ রেখেছেন। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ ও ‘দ্য পিঙ্ক প্যান্থার ২’-এর মতো হলিউড প্রজেক্টে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি—যার রেড কার্পেট উপস্থিতি এখন এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি লরিয়েল প্যারিসের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও পরিচিত এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ঐশ্বরিয়া রাই ফাউন্ডেশন’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অসহায় শিশুদের সহায়তায় কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে।
কর্নাটকের মঙ্গলুরুতে জন্ম নেওয়া ঐশ্বরিয়ার শৈশবের স্বপ্ন ছিল স্থপতি হওয়া, তবে ভাগ্যের লিখনে তিনি হয়েছেন বিশ্বসুন্দরী। নব্বই দশকের শুরুতে বিজ্ঞাপনচিত্র ও মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু করেন, এরপর ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয় করে রাতারাতি আলোচনায় আসেন।

২০০৭ সালে তিনি বিয়ে করেন বলিউড তারকা অভিষেক বচ্চনকে। অমিতাভ বচ্চনের পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে যোগ দেন বলিউডের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে। ২০১১ সালে জন্ম নেয় তাদের কন্যা আরাধ্যা বচ্চন।
মাতৃত্বের পর কিছু সময় বিরতি নিলেও ঐশ্বরিয়া ফিরে আসেন আরও উজ্জ্বলভাবে। ‘জজবা’, ‘সর্বজিত’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ এবং সাম্প্রতিক ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজে তার পর্দা-উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে, অভিনয়ে তিনি আগের মতোই অনবদ্য।
ঐশ্বরিয়া রাই শুধু রূপের নয়, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতার প্রতীক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “সৌন্দর্য মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং নিজের অসম্পূর্ণতাকেও ভালোবাসা।” সেই দর্শনই তাকে আজও করে রেখেছে অনন্য, অনুপ্রেরণার প্রতিমূর্তি।

বলিউডের তারকাদের সম্পর্কে অজানা নানা তথ্য জানার জন্য সব সময় মুখিয়ে থাকেন তাঁদের ভক্তরা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাঝেমধ্যেই বলিউড-কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তারকাদের সম্পর্কে অজানা ও চমকপ্রদ নানা তথ্য প্রকাশ করে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সাবেক বিশ্বসুন্দরী, বলিউডের অভিনেত্রী ও প্রভাবশালী বচ্চন পরিবারের বউ ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
স্কুলজীবনেই বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল:
স্কুলে পড়ার সময়ই বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ক্যামলিন পেনসিলের বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। তখন তিনি ক্লাস নাইনে পড়তেন।
তুখোড় ছাত্রী:
শৈশবে পাঁচ বছর ধ্রুপদি নৃত্য ও সংগীতের ওপর তালিম নিয়েছেন ঐশ্বরিয়া। পাশাপাশি তুখোড় ছাত্রী হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। স্থপতি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে রাহেজা কলেজে স্থাপত্য বিভাগে ভর্তি হলেও মডেলিং হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর জন্য পড়ালেখা ছেড়ে দেন তিনি। ১৯৯১ সালে ফোর্ড আয়োজিত একটি সুপার মডেল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর মুকুট মাথায় তোলেন ঐশ্বরিয়া। এই সাফল্যের রেশ ধরে ভোগ ম্যাগাজিনের মার্কিন সংস্করণে প্রচ্ছদ-কন্যা হওয়ার সুযোগ মেলে তাঁর।

তারকা হওয়ার আগেই রেখার আশীর্বাদ:
তখন মডেলিং জগতে সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছেন ঐশ্বরিয়া। হঠাত্ একদিন মুম্বাইয়ের একটি মার্কেটে তাঁকে দেখে চিনতে পারেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী রেখা। তিনি ঐশ্বরিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁর কাঁধে হাত রাখেন। ঐশ্বরিয়ার জীবনের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন রেখা। এভাবে তারকা হওয়ার আগেই রেখার আশীর্বাদ লাভ করেন ঐশ্বরিয়া।
মুম্বাই দাঙ্গার রাতেই বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং শেষ
১৯৯২-৯৩ সালে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই দাঙ্গায় প্রায় ৯০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই অস্থির সময়ের মধ্যেও কাজ থামিয়ে দেননি ঐশ্বরিয়া। ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ তারকা আমির খানের সঙ্গে কোমল পানীয় পেপসির একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছিলেন তিনি। টানা কাজ করে এক রাতের মধ্যেই বিজ্ঞাপনচিত্রটির শুটিং শেষ করেছিলেন তাঁরা। এই দুই তারকা পেপসির পাশাপাশি কোকের বিজ্ঞাপনচিত্রেরও মডেল হয়েছেন। বলিউডের আর কোনো তারকাই একসঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই কোম্পানি পেপসি ও কোকের মডেল হননি।
প্রিয় চলচ্চিত্র ‘ক্যাসাব্লাঙ্কা’:
ঐশ্বরিয়ার প্রিয় চলচ্চিত্রের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে অস্কারজয়ী হলিউডের ছবি ‘ক্যাসাব্লাঙ্কা’র নাম। হামফ্রে বোগার্ট ও ইনগ্রিড বার্গম্যান অভিনীত ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৪২ সালে। হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল ছবি ‘ক্যাসাব্লাঙ্কা’।
গয়না বিদ্বেষী:
ঐশ্বরিয়ার অন্যতম প্রিয় একটি শখ হলো ঘড়ি সংগ্রহ করা। হরেক রকমের ঘড়ি আছে তাঁর সংগ্রহে। ঘড়ি সংগ্রহের বাতিক থাকলেও, গয়না নাকি একদমই পছন্দ করেন না তিনি।

ঐশ্বরিয়ার বারবি পুতুল:
২০০৫ সালে ঐশ্বরিয়ার অল্প কিছু বারবি পুতুল যুক্তরাজ্যের বাজারে ছাড়া হয়েছিল। সবগুলো পুতুল বিক্রি হতে সময় লেগেছিল মাত্র কয়েক মিনিট।
হেফনারকে না:
২০০৫ সালে প্লেবয় ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণ বের করার পরিকল্পনা করেছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা হিউ হেফনার। আর প্রচ্ছদ-কন্যা হিসেবে তিনি চেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়াকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি হেফনার।
জর্জ ডব্লিউ বুশের মধ্যাহ্নভোজের নিমন্ত্রণ:
২০০৬ সালে ভারত সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। তখন বুশের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া ও আমির খান। কিন্তু শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে লোভনীয় এ সুযোগটি হারাতে হয়েছিল ঐশ্বরিয়াকে। তিনি তখন ব্রাজিলে ‘ধুম ২’ ছবির শুটিং করছিলেন।
দুবাইতে দিনভর ট্রাফিক জ্যাম:
ঐশ্বরিয়া ভারতের সীমানা পেরিয়ে অনেক আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যেও রয়েছে ঐশ্বরিয়ার অগুনতি ভক্ত। তিনি একবার সাবানের বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে দুবাই গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে কাছ থেকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করতে থাকেন তাঁর ভক্তরা। এ জন্য দুবাই-এর বেশ কয়েকটি রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম বেধে গিয়েছিল। সেই জ্যাম ছুটতে সারা দিন সময় লেগে যায়।
খখ/মো মি


