খাসখবর খেলা ডেস্ক: সময়টা বুঝি ভারতেরই! রোহিত-কোহলিদের হাত ধরে ভারতীয় পুরুষ দল ১৩ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়েছে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। পরের বছর তারাই ফের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে। এবার নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবার শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ল হারমনপ্রিত কৌরের দল। শেফালি-দীপ্তির দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়েছে ভারত।
১৯৮৩ সালের ২৫ জুন। সেদিনই ভারতের পুরুষ ক্রিকেটের ইতিহাস পাল্টে দিয়েছিলেন কপিল দেব। লর্ডসে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু ট্রফি জেতেনি তার দল। খেলাটিকে পুরো ভারতীয়দের কাছে আবেগ ও হাজার কোটি টাকার শিল্পে পরিণত করার মঞ্চ গড়ে দিয়েছিল।
২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সেই ইতিহাস এবার নতুন করে লিখলেন হারমানপ্রীত কৌরের নারী ক্রিকেট দল। তার নেতৃত্বে প্রথমবার নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। রবিবার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এখন তারা।
শুরুতে ভারতীয় দল ৭ উইকেটে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে অলআউট করেছে স্বাগতিকরা।
ইতিহাস গড়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন দীপ্তি শর্মা। বল হাতে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। যার মধ্যে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের নায়ক লরা ভলভার্টের মূল্যবান উইকেট। যিনি ১০১ রানের লড়াইয়ে আশার সঞ্চার করছিলেন। দলের ২২০ রানে তার আউটের পরই ধসে পরে দলটির ইনিংস। ব্যাট হাতে দাপট দেখানোর পর বল হাতেও দুই উইকেট নেওয়ায় ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন শেফালি।
এর আগে বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টা পর গড়ায় খেলা। ওভার যদিও কাটা যায়নি। তাতে শুরুতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। যারা টুর্নামেন্টে প্রথমবার ফাইনাল খেলতে নামে।
শেফালি বর্মার ৭৮ বলে ঝড়ো ৮৭ রানের ইনিংসের পর দীপ্তি শর্মা ও ঋচা ঘোষের ব্যাটিংয়ে ভর করে ভারত সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ২৯৮রান। দীপ্তির ৫৮ রানের ইনিংসটি ছিল ৬০ বলের। তাতে ছিল ৩ চার, ১ ছক্কা। ঋচা ২৪ বলে খেলেছেন ৩৪ রানের ইনিংস। তাতে ছিল ৩ চার, ২ ছক্কা। দীপ্তি-ঋচা ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৩৫ বলে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
শুরুতে স্মৃতি মান্ধানাকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে ১০৪ রান যোগ করেন শেফালি। স্মৃতি ৪৫ রানে আউট হল ভাঙে শুরুর জুটি। দলের ১৬৬ রানে শেফালিকে আউট করে ভারতকে বড় ধাক্কা দেন খাকা। তাতে শতরান থেকে বঞ্চিত হন ভারতীয় ওপেনার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালের নায়ক জেমিমাহ রদ্রিগেজ এবারও লম্বা ইনিংসের পথে ছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক লরা ভলভার্টের দুর্দান্ত ক্যাচে তার ২৪ রানের ইনিংস থামে ৩০তম ওভারে। এরপর হারমানপ্রীতের ওপর নির্ভর করছিল সব কিছু। দীপ্তির সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়লেও পরে ছন্দ হারান অধিনায়ক। ৩৯তম ওভারে ননকুলুলেকো ম্লাবার বলে ২০ রানে ক্লিন বোল্ড হন তিনি।
তারপর অমানজোত কৌর (১২) ও দীপ্তির জুটি বড় কিছু করতে পারেনি। নাদিন ডি ক্লার্কের এক অসাধারণ ক্যাচে শেষ হয় অমানজোতের ইনিংস। তার পর মূলত দীপ্তি-ঋচা দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর চড়াও হয়ে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৫৮ রানে তিনটি উইকেট নেন আয়াবোঙ্গা খাকা।
লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরুই পেয়েছিল উলভার্টের দল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাজমিন ব্রিটস রানআউট হলে তাদের ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। এরপর সুনে লুসের ২৫ এবং এনেরি ডার্কসেনের ৩৫ রান ছাড়া আর কেউই উলভার্টকে সঙ্গ দিতে পারেননি। সতীর্থদের যাওয়া-আসার একা ত্রাতা হয়ে উঠছিলেন প্রোটিয়া দলপতি। দলীয় ২২০ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে উলভার্টের বিদায়ে ভারতের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে তাদের শঙ্কা ছিল নাদিনে ডি ক্লার্ককে নিয়ে। কারণ লিগপর্বে ভারতের জয় কেড়ে নিয়েছিলেন এই বিধ্বংসী ব্যাটার। আজ আর পারলেন না। আউট হলেন ১৮ রানে।
উলভার্ট ৯৮ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ১০১ রান করেছেন। নারী ও পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনি মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সেঞ্চুরি করলেন। তার আগে কেবল অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি ম্যাজিক ফিগার পূর্ণ করেছিলেন ২০২২ আসরে সেমি এবং ফাইনালে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অষ্টম সেঞ্চুরি এবং এক আসরে সর্বোচ্চ ৫৭১ রান হয়তো উলভার্টকে কিছুটা সান্ত্বনা দেবে। কিন্তু কমাতে পারবে না প্রথম কোনো বিশ্বকাপ না জেতার ক্ষত!
খখ/মো মি


