হংকংয়ে বহুতল ভবনে আগুন: মৃত্যু বেড়ে ৪৪, নিখোঁজ ২৭৯

Oplus_131072
thai foods

খাসখবর আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হংকংয়ের একটি বহুতল ভবন কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৯ জন। আগুনে দগ্ধ হয়েছেন অনেকে। 

thai foods

গতকাল বুধবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে শহরের তাই পো এলাকায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে রাতে হতাহতের খবর জানান শহরের প্রধান নির্বাহী জন লি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলের তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট কমপ্লেক্সের অন্তত তিনটি আবাসিক ভবনের বাঁশের মাচায় প্রথমে আগুন ধরে যায়। এরপর তা ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আটটি ব্লক নিয়ে গঠিত ওই কমপ্লেক্সে প্রায় ২ হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিস ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। এরমধ্যে ৪০ জন ঘটনাস্থলে এবং চারজন হাসপাতালে মারা গেছেন। এছাড়া গুরুতর অবস্থায় আছেন আরও ৪৫ জন।

আগুনের মাত্রা এত ভয়াবহ যে কমপ্লেক্সটিতে ১৫ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে। এর আগের আপডেটে ৩৬ জনের মৃত্যু এবং ২৭৯ জন নিখোঁজ ছিলেন। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বাড়বে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কর্মকর্তা। এরমধ্যে দুজন কোম্পানিটির পরিচালক। অন্যজন পরামর্শক।

আগুন লাগার পর ‘অস্বাভাবিকভাবে’ এটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে অনেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। আর ভবনের ভেতর পলিস্টাইরিনসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থ পাওয়া গেছে। যা আগুন জ্বালাতে আরও সহায়তা করেছে। এছাড়া কমপ্লেক্সে থাকা নিরাপত্তা জাল, ক্যানভাস এবং প্লাস্টিকের কভারগুলো সেফটি স্ট্যান্ডার্ড পূরণ করতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও সিএনএন আরো জানায়, গতকাল রাতেও কমপ্লেক্সের ৩২তলা ভবনগুলোয় আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুনের তীব্র উত্তাপের কারণে ভবনগুলোর ওপরের দিকে যাওয়া যাচ্ছে না। রাতের অন্ধকার নেমে আসার কারণেও আগুন নেভাতে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। গতকাল রাত পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে মোট আটটি ভবন রয়েছে। ভবনগুলোয় মোট অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ২ হাজার। এসব অ্যাপার্টমেন্টে ৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি বাসিন্দা বাস করেন। আগুন লাগা ভবনের ভেতরে কতজন আটকা পড়েছেন, তা জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তারা।

আগুনে যখন আবাসিক কমপ্লেক্সটি জ্বলছিল, তখন অনেকেই পাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন। তাঁদের অনেককে আহাজারি করতে দেখা যায়। এমনই একজন ৭১ বছর বয়সী ওং। তাঁর স্ত্রী আগুন লাগা ভবনগুলোর একটিতে আটকা পড়েছিলেন। হ্যারি চেউং নামের আরেকজন বলেন, ‘হয়তো আজ রাতে আর বাসায় ফিরতে পারব না। রাতে কোথায় থাকব আমি? ’আগুনের কারণে হংকংয়ে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

শহরের পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, সেখানকার প্রধান দুটি মহাসড়কের একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যানবাহনগুলো ঘুরিয়ে দেওয়া হয় অন্য দিকে। এ ছাড়া আজ বৃহস্পতিবার শহরের অন্তত ছয়টি স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে শহরের শিক্ষা ব্যুরো।

আগুন লাগার পর গতকাল রাতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সরকারি দপ্তরগুলোকে আগুন নিয়ন্ত্রণের সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। হতাহতের ঘটনা যেন কম হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলেন তিনি।

এর আগে ১৯৯৬ সালে হংকংয়ের কোউলুন এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুনে ৪১ জন নিহত হন। গতকালের আগুন লাগার ঘটনার আগে এটিই ছিল শহরটির সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

খখ/মো মি

আগেবিশ্বে প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদন দিল ব্রাজিল
পরেফের চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন চন্দনাইশ থানার গোলাম সারোয়ার