মণিদীপ্ত দে,খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ২টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীকে ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮১৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জয়ী হয়েছেন। মীর হেলাল পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির। মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৪৪ হাজার ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোমবাতি প্রতীকের ইলিয়াস নুরী। গিয়াস কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৬ ভোট। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩ ভোট।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ডা. এটিএম রেজাউল করিম। বিএনপি’র হুমাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৬৭। জামায়াত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৬৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে মোট ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩ কেন্দ্রের ফলাফলেই বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। এই আসনে ১৩৩ কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১২২টি। তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. এম এ নাছের। তিনিও একই সংখ্যক কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ২৪১ ভোট পেয়েছেন। দুইজনের ভোটের ব্যবধান ৮০ হাজার ৮৮১। আর ৪৬ কেন্দ্রের বাকী থাকা ফলাফল এক্ষেত্রে জয় পরাজয়ে কোন প্রভাব ফেলবে না বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু সুফিয়ান জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক। ধানের শীষ নিয়ে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। এ আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফলে সাঈদ আল নোমান ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিউল আলম। ধানের শীষ প্রতীকে আমীর খসরু মাহমুদ পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১৫ ও দাড়িপাল্লার প্রার্থী মো. শফিউল আলমের ভোট ৭৭ হাজার ৯১৬।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হক এনাম জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকের সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু।বিএনপির এনামুল হক এনাম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোমবাতি মার্কার সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ার ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ ফরিদ পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪০ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী এস এম শাহাজান। ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬০। মোমবাতি মার্কায় ৫৪ হাজার ৬২৭ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এস এম শাহজাহান। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। এখানে বিএনপি প্রার্থী মাত্র ১০২৬ ভোটের জিতেছেন।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনকে পরাজিত করেন। এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। এখানে দাড়িঁপাল্লা মার্কার প্রাপ্ত ভোট ৮৯ হাজার ৯৬০। ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট ৮২ হাজার ২৩৭। বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে ভোটে থাকা ফুলবল মার্কার প্রার্থী লেয়াকত আলীর প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৭৯টি।
খখ/মো মি


