খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন কালুরঘাট তদন্ত কেন্দ্র সংলগ্ন মন্দিরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে বাল্কহেড শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই প্রতারককে হাতেনাতে আটক করে নৌ পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটলেও জানাজানি হয় পরে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান।
আটক দুইজন হলেন-শাহে আলম ওরফে দাদা ভাই (৪৬)। বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার চরমানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ আইসা গ্রামের হানিফ বেপারির ছেলে ও অন্যজন হলেন মোহাম্মদ লিটন (৩৭)। বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকার আজিজ বলির বাড়ি নোয়া মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, অভিযুক্তরা ভাড়া করা একটি নৌকা নিয়ে নদীর মাঝখানে গিয়ে চলাচলরত বাল্কহেড থামাত। এরপর কখনো নিজেদের নৌ পুলিশ, কখনো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করত। তাদের সন্দেহজনক আচরণে সতর্ক হয়ে স্থানীয়রা একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে।

আটকের সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ ২ হাজার টাকা, একটি লোহার স্টিক এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। তারমধ্যে জেট টিভিরও দুটি কার্ড ছিল। পাশাপাশি নদীর পাড়ে রাখা তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করে নৌ পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি নদীপথে বিভিন্ন পরিচয়ে শ্রমিকদের হয়রানি করে আসছিল। হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। পরে খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ বিষয়ে সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে এমবি হোসেন দুলাল নামক বাল্কহেডের সুকানি মোঃ হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে গ্রেফতার আসামীদের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানায় (মামলা নং ৩৫, তাং ২২-০৪-২৬, ধারা-১৭০/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০) মামলা দায়ের করেন। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খখ/মো মি


