খাসখবর বিভাগীয় ডেস্ক: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম। তাঁদের সংসারে একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন এবং ১০ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি বিয়ে করেছেন।
শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তাঁর ডান চোখের পাশ দিয়ে মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২৯ মে শহীদ সন্তানের জন্য পাওয়া অনুদানের অর্থ থেকে সাত লাখ টাকার কাবিন এবং প্রায় পাঁচ লাখ পঁচিশ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন।
এ ঘটনার পর গভীর মানসিক আঘাতে গত ২ জুন মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিনকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মমতাজ বেগম। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে নিবৃত্ত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহীদ শাহরিয়ারের পরিচয় ব্যবহার করে আব্দুল মতিন বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম বলেন, সন্তানের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাঁর দাবি, স্বামীর নিজের সামর্থ্যে এত ব্যয়বহুল বিয়ে করা সম্ভব ছিল না। সরকারের দেওয়া শহীদ পরিবারের অনুদানের অর্থই এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ছেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর পর থেকেই তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। বংশ রক্ষার অজুহাতে তাঁকে এ বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়।
মমতাজ বেগমের আরও অভিযোগ, শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ এককালীন ৩০ লাখ টাকা তাঁর স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন আব্দুল মতিন। তবে তিনি সতর্ক থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এছাড়া শহীদ ছেলের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন শাহরিয়ারের মা।
অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, বংশ রক্ষার প্রয়োজন এবং তাঁর মায়ের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, নিজের চাকরির আয় দিয়েই বিয়ের ব্যয় বহনের সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। শহীদ সন্তানের অনুদানের অর্থ ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে তিনি কয়েকবার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে তাঁকে অপমান করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে বিষয়টি পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, শহীদ শাহরিয়ারের বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সমীচীন হয়নি। তিনি বলেন, পরিবারের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তানকে নিয়েই সংসার চালিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল।
খখ/মো মি


