বিএনপির সঙ্গে যে শর্তে সমঝোতা হলো রাষ্ট্রপতি মো সাহাবুদ্দিনের

thai foods

খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: দেশে নিরাপদে চলাচল করতে পারা এবং বাধাহীনভাবে বিদেশ যাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েই পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সরকারি দল বিএনপি সাহাবুদ্দিনের এই একটি অনুরোধ মেনে নিলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা কোনো দুর্নীতির অভিযোগ মামলার হবে না তার নিশ্চয়তা বিএনপি সরকার দেয়নি।

thai foods

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন কালে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ যে সুরক্ষা দিয়েছে সেটি তিনি পাবেন নিশ্চিতভাবেই।

অবশ্য সদ‍্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দ্রুত দেশের বাইরে চলে যাওয়াকে নিরাপদ মনে করছে সরকার। আওয়ামী লীগের আমলের নির্বাচিত সাবেক এই রাষ্ট্রপতিক দেশে রাজনৈতিকভাবে নানামুখী সমস‍্যায় পড়তে পারেন বলে বিএনপি নেতারা মনে করেন। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাচ্ছেন না।

পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনও দ্রুত বিদেশ যেতে চাইছেন। পদত্যাগের পর শুক্রবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কিছুটা সুস্থ হলে ১০/১২ দিন পর বিদেশ যাব।’

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, ‘আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে, যা দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বা বিএনপির সঙ্গে সমেঝোতার বিষয়টি জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ আগেই জানতেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির শীর্ষ এক নেতা বলছেন, ‘তাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশন করার চাপ ছিল। এ ছাড়া নানান দিক বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি আর রাখতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক বিদায় দিয়ে বিএনপি চেয়েছে সাহাবুদ্দিন বিদেশে চলে যান।’

সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পরও ভিভিআইপি প্রটোকল পেলেও যেকানো সময় তার বাসায় এনসিপিসহ যেকোনো সংগঠন ঝামেলা করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই বিএনপি তার বিদেশ যাওয়াটাকে নিরাপদ মনে করছে।

ইতিমধ্যেই রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর হোল্ডিংয়ে গ্রিন ভিলা ভবনের ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাট বিদায়ী রাষ্ট্রপতির জন্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বঙ্গভবন ছেড়ে সেখানেই তিনি উঠবেন।

তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাগর হোসেন বলেন, ‘রোববার বা সোমবারের মধ্যে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গুলশানের ফ্ল্যাটে উঠবেন। তিনি এখনো বঙ্গভবনে আছেন।’

বিএনপি নেতারা কৌশল নিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি যেহেতু ‘গুরুতর শারীরিক অসুস্থার’ কারণে পদত্যাগ করেছেন তাই তারা এই বাইরে কোনো মন্তব‍্য করবেন না।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন কি না? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ। তিনি অসুস্থার কারণে পদত্যাগ করেছেন। এর বাইরে তিনি কোনো কথা বলবেন না।’

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও পদত্যাগের পর থেকেই বলছেন, ‘তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন।’ অবশ্য বিএনপি ক্ষমতার আসার পর থেকেই চেয়েছিল দলটি রাষ্ট্রপতিকে সম্মানজনক বিদায় জানাবে।

এ ছাড়া বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি সরকার যে ঝামেলায় ফেলতে চায় না তার বড় প্রমাণ মিলে শনিবার আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে‍।

শনিবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের উদ্দেশ্যও খতিয়ে দেখা হবে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাষ্ট্রপতি থাকাবস্থায় সাহাবুদ্দিনের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কেউ ঝামেলা ফেলতে চাইলে সরকার তা করতে দিতে চায় না।

তবে, রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি দুদকের দায়িত্বে থাকাবস্থায় বা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকাকালীন তার কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ কোনো অনিয়মের বিষয়ে কোন দায়িত্ব নিতে চায় না সরকার।

ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন এবং পরে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রতিবেদনে এস আলম গ্রুপের ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং অনিয়মিত ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং আগামী বুধবার শুনানির কথা রয়েছে।

শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান সাহাবুদ্দিন। স্পিকার তা গ্রহণ করে সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শনিবার মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে দুটি বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। একটি প্রজ্ঞাপনে হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয় ও অপর প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন বসবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।’

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

খখ/মো মি

আগেসিজেপির আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
পরেরাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচনে প্রত্যাহার হলো প্রভাবশালী ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট