‘বিশ্ব ব্যর্থ হচ্ছে, বিশ্ব সম্প্রদায় হিসেবে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি’-হু প্রধান

দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা চেয়ে আকুতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের
thai foods

খাসখবর মহামারী ডেস্ক➤ করোনার ভয়ানক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। নাম উল্লেখ না করে কিছু দেশ সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জানান, দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা সরবরাহে এসব দেশের আগ্রহ নেই।

thai foods

দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন হু প্রধান তেদ্রস আধানম গেব্রেয়াসুস।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ব ব্যর্থ হচ্ছে, বিশ্ব সম্প্রদায় হিসেবে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আফ্রিকার অবস্থা হলো সেখানে গত সপ্তাহে মৃত্যু ও আক্রান্ত আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, ধনী দেশগুলোতে ব্যাপক ঝুঁকি না থাকলেও দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার অভাবে করোনার বড় ধরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে এসব দেশগুলোর জন্য টিকার জন্য জোর দাবি জানালেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান (হু) তেদ্রস আধানম গেব্রেয়াসুস। শুক্রবার(২৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবির কথা জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বর্তমান টিকার এই সংকটকে বৈশ্বিক ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ব ব্যর্থ হচ্ছে, বিশ্ব সম্প্রদায় হিসেবে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।’ গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘আফ্রিকার অবস্থা হলো সেখানে গত সপ্তাহে মৃত্যু ও আক্রান্ত আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনার ভয়ানক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।’ নাম উল্লেখ না করে কিছু দেশ সম্পর্কে তিনি জানান, দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা সরবরাহে এসব দেশের আগ্রহ নেই। করোনাকে এইচআইভি/এইডস এর সঙ্গে তুলনা করে জানান, ওই সময়েও কিছু দেশ যুক্তি দেখিয়ে জানিয়েছিল গরিব দেশগুলো জটিল রোগের চিকিৎসা করতে পারবে না।

হু প্রধান বলেন, ‘আমি বলতে চাই প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে। আমাদের সবাইকে সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তবে মূল বিষয় হচ্ছে সরবরাহের সমস্যা। আমাদের এখন এসব দরিদ্র দেশে জরুরিভিত্তিতে টিকার সরবরাহ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘পার্থক্য হলো আছে এবং নেই এর মধ্যে, যা এখন বিশ্বের অবিচার, বৈষম্যের অসুন্দর দিকটি ফুটিয়ে তুলছে। এখন এসব মোকাবিলা করতে হবে আমাদের।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান বলেন, ‘কলেরা-পোলিওর ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়নশীল দেশও এখন শিল্পোন্নত অনেক দেশের চেয়ে ভালোভাবে গণটিকাকরণ শুরু করেছে।’ তিনি বলেন, ‘কর্তৃত্বের স্তর, উপনিবেশিক স্তরের অর্থ হলো আমার আপনাকে কিছু দিতে পারবো না, কারণ আমরা ভীত এই ভেবে যে আপনারা এটি ব্যবহার করতে পারবেন না। মহামারির মধ্য পর্যায়ে এসে এটি বলতে হচ্ছে আমাকে, সত্যিই!’

কোভ্যাক্স-গ্যাভি ভ্যাকসিন জোট এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩২টি দেশে ৯০ মিলিয়ন ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে। কিন্তু ভারত টিকা রফতানি বন্ধ করায় টিকা সরবরাহ ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা ব্রুস আয়ালওয়ার্ড বলেন, ‘কোভ্যাক্সের মাধ্যমে এ মাসে আমরা অ্যাস্ট্রাজেনেকার, ভারতের সেরামের এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজ টিকাও পাইনি। পরিস্থিতি এখন ভয়াব্হ।’

খখ/মো মি

আগেকরোনায় মোট মৃত্যু ১৪ হাজার ছাড়িয়েছেঃ আজ মৃত্যু ৭৭, শনাক্ত ৪৩৩৪
পরেদেড় হাজার সাংবাদিক খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ চায়