না ফেরার দেশে চলে গেলেন সকলের প্রিয় ‘দাদা মণি’

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক➤ শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সকলের প্রিয় ‘দাদা মণি‘ (কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত)। শনিবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি পটিয়ার ধলঘাট গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রাণপুরুষ, কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশ গুপ্তের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

thai foods

চিরকুমার অরুণ দাশগুপ্ত জীবন সায়াহ্নে এসে অসুস্থ অবস্থায় পটিয়ার ধলঘাট গ্রামের বাড়িতে দিন কাটাচ্ছিলেন।

দৈনিক আজাদীর প্রয়াত সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের হাত ধরে ১৯৭৩ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক আজাদীতে। ছিলেন পত্রিকাটির সিনিয়র সহকারী সম্পাদক ও সাহিত্য সম্পাদক।

দীর্ঘকাল দৈনিক আজাদীর সাহিত্য পাতা সম্পাদনা এবং নিরন্তর সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে তিনি চট্টগ্রামে তৈরি করেছেন বিশাল সাহিত্য অনুরাগী বলয়। মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রামের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অরুণ দাশগুপ্ত দীর্ঘসময় বসবাস করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর এনায়েত বাজারে মহিলা কলেজের পাশে বাড়িতে। ‘কল্যাণী’ নামের বাড়িটি অরুণ দাশ গুপ্তের কারণেই সাহিত্য আড্ডার জন্য বিখ্যাত ছিল।

১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি ধলঘাট গ্রামে জমিদার যশোদা নন্দন ওয়াদ্দেদার (দাশগুপ্ত) এর পুত্র অবিনাশ ওয়াদ্দেদারের ঔরসে জন্ম অরুণ দাশগুপ্ত’র। কবিতা, চিত্রকলা, ছোটগল্প, সঙ্গীত ক্ষেত্রে তাঁর অবাধ বিচরণ। পেয়েছেন অনেক পুরস্কার।

জন্মস্থান ধলঘাটে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে কলকাতায় চলে যান। সেখানে স্কটিশ চার্চ কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা নেন। কর্মজীবনের শুরুতে শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়েছিলেন। এরপর কলকাতার লোকসেবক পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। দেশভাগের পর বাবা অবিনাশ ওয়াদ্দেদারের (দাশ গুপ্ত) সঙ্গে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের ‘গুরুজন’ হিসেবে বিবেচিত অরুণ দাশ গুপ্ত অনুরাগীদের কাছে ছিলেন ‘দাদামণি’ হিসেবে পরিচিত।

সাহিত্য অঙ্গনের এই বিদগ্ধজন আবার দেশের সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্তিম শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য মরদেহ দৈনিক আজাদী ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে নিয়ে আসার কথা ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

ধলঘাট গ্রামের বাড়িতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশ গুপ্তের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় বিষয়টি বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ‘সম্মানিত সদস্য’ ছিলেন তিনি।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, কবি ও প্রবীণ সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্তের  মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন।

এছাড়াও সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দরা বলেন, ‘কবি ও সাংবাদিক অরুণ দাশ গুপ্ত চট্টলবাসীর অহংকার। একজন অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক হিসেবে তিনি শুদ্ধ মননের বিকাশ ও জ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির অভিভাবক হিসেবে আমাদের সকলের আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তার মৃত্যুতে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’

অরুণ দাশ গুপ্ত কবিতা, চিত্রকলা, ছোটগল্প, সঙ্গীত সবক্ষেত্রে অবাধ বিচরণ করেছেন। চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে অনেক লেখক গড়ে তুলেছে আজাদী। তার পেছনের কারিগর ছিলেন অরুণ দাশগুপ্ত। তিনি বিএফইউজের সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্লোভ ও নিরহংকারী ব্যক্তি ছিলেন। নিজের জ্ঞানের আলোয় সমাজকে আলোকিত করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন গুণিজন হারালাম।’

খখ/মো মি

আগেআগস্টে আসছে ফাইজারের ৬০ লাখ ডোজ টিকা
পরেভূমধ্যসাগর থেকে ৪৯ বাংলাদেশি উদ্ধার করেছে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী