খাসখবর খেলা ডেস্ক➤ সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬০ রানের বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের দেওয়া ১২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে মাত্র ৬২ অলআউট হয়ে যায় অজিরা। যা টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্কোর। এর মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে জিতে নিলো টাইগাররা।
এদিন, দারুণভাবে কামব্যাক করেছেন সাকিব আল হাসান। মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট। বোলিংয়ের নির্ধারিত কোটাও তিনি পূরণ করেননি। ৩.৪ ওভারের মধ্যে একটি মেডেনও দিয়েছেন। এটিই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং। এ ম্যাচের মধ্যদিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়া ব্যাট হাতে মাঠে নামতেই বাঁ-হাতের খেল দেখাতে থাকেন নাসুম আহমেদ। শুরুতেই জোড়া আঘাত করেন ২৬ বছরের এ স্পিনার। দলীয় ৩ রানের মাথায় ওপেনার ক্রিস্টিয়ানের উইকেট উপড়ে দেন নাসুম। আর মিচেল মার্শকে ফেলেন এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে। অতিথিদের দলীয় স্কোর তখন মাত্র ১৭।
মন্থর উইকেটে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ক্যাপ্টেনের ম্যাথু ওয়েডের ব্যাটে। তবে তারকা এ ওপেনার ২২ রানের বেশি তুলতে পারেননি। পরে বেন ম্যাকডারমট ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে কট এন্ড বোল্ড হয়ে সাজঘরে পথ ধরেন তিনি।
ম্যাকডারমটের বিদায়ের পরই তাসের ঘরের মতো যেন ধসে পড়তে থাকে সফরকারী অজি ব্যাটিং লাইন-আপ। টাইগার বোলারদের তোপ সামলে উঠতে পেরে পরের ব্যাটসম্যাদের কেউ ৪ রানের বেশি তুলতে পারেননি। ফলে ১৩.৪ ওভারে ৬২ রান তুলেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। এতে একটি রেকর্ডও করে ফেলে ম্যাথু ওয়েডের দল। টি-টোয়েন্টি অজিদের এটাই যে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর।
বল হাতে স্পিন জাদু দেখিয়ে সাকিব আল হাসান একাই শিকার করেছেন ৪ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন তিনটি ও নাসুম আহমেদ নেন দুটি উইকেট।
পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১২৩ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১২২ রানের পুঁজি গড়ে টাইগাররা।
শেষ ম্যাচে এসে ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের বদলে ইনিংস উদ্বোধনে মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে নামেন মেহেদী হাসান। এ পরিবর্তনে সুফলও পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এই জুটি অবশ্য খুব বেশি বড় হয়নি। ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফেরেন মেহেদী হাসান। ৪২ রানেই ভাঙে দুজনের পার্টনারশিপ। পরে মোহাম্মদ নাঈম শেখ বিদায় নেন ২৩ রান করে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এটাই বাংলাদেশের সব চেয়ে জুটি।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙতেই পুরনো চেহারায় ফেরে বাংলাদেশ। শুরু হয়ে যায় ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল।
সাকিব আল হাসান ১১, সৌম্য সরকার ১৬ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৯ রান যোগ করেন দলীয় স্কোরে।
তার আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন এসেছে। দলে জায়গা করে নিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। অস্ট্রেলিয়ার দলেও দুটি পরিবর্তন এসেছে। একাদশে ফিরেছেন নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা। দল থেকে ছিটকে গেছেন অ্যান্ড্রু টাই ও মিচেল সোয়েপসন।
প্রথম তিন টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ আগেই
নিশ্চিত করে রাখে বাংলাদেশ। পরে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জিতে অজিরা। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জিতলো টাইগাররা।
পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে চার উইকেট শিকার করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ ও সিরিজ নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
খখ/মো মি


