“সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার”-তথ্য প্রতিমন্ত্রী

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় কোন হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো কোন হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বিএনপি সরকার অতীতেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

thai foods

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফিতা কেটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তখনি সাংবাদিকদের পাশে থাকে। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাংবাদিক বান্ধব নানা কর্মসূচী সরকার হাতে নিচ্ছে। তারা যেমন সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়ন করে গেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও তাই করছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশে নানা হস্তক্ষেপ করতো সরকার। তারা নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দিতো। তাছাড়াও তৈলমর্দন করাকে তারা স্বীকৃতি দিয়েছিল। আমরা কিন্তু তা করছি না। সেরকম কিছু করার ইচ্ছে কিংবা মানসিকতাও নেই। এখন পর্যন্ত আমরা কোন সংবাদ প্রকাশে চাপ প্রয়োগ করেছি বলে কেউ বলতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গণমাধ্যম তার নিজ গতিতে চলবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করবে। তবে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য যেন খবরে না আসে। এজন্য আমরা আহ্বান জানাব সাংবাদিকরা যেন বিষয়গুলো খেয়াল রাখেন। বর্তমানে এআই বিশ্বব্যাপী এমন একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আমাদের নিয়ে গেছে। যে কাউকে অপদস্ত করা যাচ্ছে। নানাভাবে ছবি ও ভিডিও বানিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন সহজ হয়ে গেছে। তবে এআই’র পজেটিভ দিকও রয়েছে। তাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের উপর মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের অধিকারগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। তবে অতীতে যেসব আবাসন বিএনপি সরকার দিয়েছিল সেগুলো ধরে রাখা গেছে কিনা সেটি আমাদের ভাবতে হবে। সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, যেগুলো আগের সরকার দেয়নি। সেই দাবি অনুসারে আমি তাদের বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছি। তবে সাথে সাথে তাদের কাছে একটা দাবি জানিয়েছি যেন আমাদের সাংবাদিকদের ভাইদেরও কোন বেতন বকেয়া না থাকে। তারা যেন প্রতিমাসে সঠিক সময়ে বেতনটা পায়। কারণ অনেকে আমার কাছে প্রায় আসে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে এমন অভিযোগ নিয়ে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ভূমি ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের যৌক্তিক সমালোচনাকে গ্রহণ করছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দেশ পরিচালনা করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেইসাথে যৌক্তিক সমালোচনাও প্রয়োজন। কেননা তা হলেই আমরা আমাদের ভুলগুলো বুঝতে পারব। তিনি বলেন, যারা প্রকৃত অর্থে সাংবাদিক, দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে জীবন, যৌবন, অধ্যবসায় পার করেছে, তারা সবাই যেন একটি বৃহৎ সাংবাদিক গোষ্ঠির সাথে কাজ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য ওসমান গনি মনসুর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: নুরুল কবিম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু নাসের, কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তাফা নঈম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ তারেক আহমদ, সিএমইউজের সদস্য আমিনুল ইসলাম, বাসসের সিনিয়র রিপোর্টার মিয়া মো. আরিফ এবং দৈনিক আমার দেশের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা আবাসন সংকট, বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন পেশাগত সমস্যা তুলে ধরেন। তারা এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম খাতের আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও পেশাগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

খখ/মো মি

আগেচট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ-ষোলশহরে নিষিদ্ধ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
পরেআবারও ডুবল পদ্মা নদীতে বাস: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে পড়া বাসটি আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার