চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশুধর্ষণ মামলায় রায় ২৬ দিনেই: আসামি মনির হোসেনের যাবজ্জীবন

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

thai foods

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর) চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়েরের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যে রায় দেওয়া হলো।

আদালত সূত্র জানায়, বেলা ২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় শেষ হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি। এ ধরনের অপরাধ শুধু শিশুর শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন সমাজের নৈতিক ভিত্তির ওপরও আঘাত হানে বলে মন্তব্য করেন আদালত।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা থেকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে রাতের অন্ধকারে কৌশলে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার পরদিন ২২ মে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়। পরে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ তদন্ত সম্পন্ন করে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা। পরদিন ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। ১৬ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে আরও বেশি খুশি হতেন।

উল্লেখ্য, একই দিনে চট্টগ্রামের আরেক আলোচিত মামলারও রায় হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

খখ/মো মি

আগেচট্টগ্রামের ইপিজেডে শিশু আয়াত হত্যা মামলা: একমাত্র আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড
পরেলিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু আর্জেন্টিনার