খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক➤১২ ঘণ্টা পর প্রমোদতরীতে থাকা আতঙ্কিত যাত্রীদের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটলো। জাহাজ থেকে নেমে যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেওয়া এমভি বে ওয়ান জাহাজটি মাঝসমুদ্র থেকে পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়।
সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেওয়া এমভি বে ওয়ান জাহাজটি মাঝসমুদ্রে যাওয়ার পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। জীবন ভয়ে জাহাজে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার মধ্যদিয়ে ১২ ঘণ্টা পর উৎকণ্ঠার অবসান হয়।
শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনালে পৌঁছায় এমভি বে ওয়ান জাহাজটি। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়।
জাহাজে থাকা যাত্রীরা জানান, রাত সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ ‘আগুন আগুন’ শব্দ ভেসে আসে। এসময় জাহাজের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। পোড়া গন্ধও পাওয়া যায়। প্রায় শতাধিক যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে জাহাজটি মাঝসাগরে নোঙ্গর করা হয়।
জাহাজটিকে ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে টাগবোট কাণ্ডারি-১০ সেখানে পৌঁছায়। সকাল ১০টার দিকে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বে ওয়ান জাহাজের ইঞ্জিনে সমস্যা হয়েছিল। বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর একটি টাগবোট পাঠানো হয়েছিল। জাহাজটি নির্বিঘ্নে ফিরে এসেছে এবং যাত্রীরা সবাই অক্ষত আছেন।’
জাহাজে ছিলেন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। আগুনের সংবাদে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপদে ফিরতে পেরে স্বস্তিবোধ করছি।’
২০২০ সালের জানুয়ারিতে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ‘এমভি বে ওয়ান ক্রুজ’ জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। তবে করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর অপারেশন বন্ধ ছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে জাহাজ আবারও চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটে যাতায়াত শুরু করে।
কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৪৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৫৫ ফুট। এটি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল বেগে চলাচল করে। তবে জাপান থেকে আনা জাহাজটি ২৮ বছরের পুরনো। বিদ্যমান আইন অনুসারে ২৫ বছরের পুরনো জাহাজ সাগরে ভাসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
খখ/মো মি


