খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে মামলা দায়েরের পর ডোবায় মিলেছে নিখোঁজ শিশু আয়নীর বস্তাবন্দি লাশ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় সাতদিন ধরে নিখোঁজ ১০ বছর বয়সী শিশুকন্যা আবিদা সুলতানা আয়নীর সন্ধান পেতে তার মা থানায় গিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় আদালতে যান। আদালত অপহরণের মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন থানাকে। সেই মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলেছে শিশু আয়নীর বস্তাবন্দি লাশ।
বুধবার (২৯ মার্চ) ভোরে নগরীর পাহাড়তলী থানার আলমতারা পুকুরপাড়া মুরগীফার্ম এলাকা থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তার লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িত রুবেলকে গ্রেফতারের পর তার দেখানো মতে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর খুন করে লাশ বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয়। মৃত আবিদা সুলতানা আয়নী (১০) নগরীর পাহাড়তলী থানার কাজীরদীঘি এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। ওই এলাকায় তাদের বাসা।
গ্রেফতার মো. রুবেল (৩৫) একই এলাকার বাসিন্দা। সে ওই এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে তার মা পোশাককর্মী বিবি ফাতেমা সবজি বিক্রেতা রুবেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শারমিন জাহান অভিযোগ গ্রহণ করে পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, শিশু আয়নী নিখোঁজের বিষয়টি অবগত হওয়ার পর থেকে রুবেলকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। কিছু তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর মঙ্গলবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রুবেল স্বীকার করে, মেয়েটিকে ২১ মার্চ নিখোঁজের দিনই সে কাজিরদীঘি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবনের চারতলায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার লাশ বস্তায় ভরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা ডোবায় ফেলে দেয়।’
রুবেলের তথ্য অনুযায়ী বুধবার ভোরের দিকে ডোবা থেকে বস্তাবন্দি প্রায় গলিত লাশটি উদ্ধার করে পিবিআই কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার আদালতে দাখিল করা মামলার আবেদনে বলা হয়, আয়নীর বাবা ঢাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মী। গত ২১ মার্চ বিকেল থেকে আয়নী নিখোঁজ। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে ওইদিন দুপুরে স্কুলের সামনে সবজি বিক্রেতা রুবেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
এর আগে আয়নী তার মায়ের কাছে বিড়ালছানা কেনার আবদার করেছিল। মাস শেষে বেতন পেলে কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন মা। কিন্তু আয়নী জানিয়েছিল, সবজি বিক্রেতা রুবেল তাকে বিড়ালছানা এনে দেবে। তবে মা ও দাদী অপরিচিত লোকের কাছ থেকে বিড়ালছানা নিতে নিষেধ করেন।
মামলার আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দু’জনের কথোপকথনের সময় রুবেলের হাতে বাজারের থলে এবং সেখানে একটি বিড়ালছানা দেখা যায়। রুবেলের কাছ থেকে আয়নীকে সেই থলে নিতেও দেখা যায়। এরপর তাদের আর দেখা যায়নি।
পাহাড়তলী থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ রুবেলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়। এরপর রুবেল দাড়ি কেটে বেশভূশা পরিবর্তন করে এলাকায় অবস্থান করছিল বলে মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন, ডোবা থেকে বস্তাবন্দী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে আবিদাকে হত্যা করেছে রুবেল। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
খখ/মো মি


