খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা যুবকও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আরাকান সড়কের শাকপুরা রায়খালীর এরিনা কম্পোজিট টেক্সটাইলের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসটির চালক জাকির হোসেনকে (৩০) আটক করা হয়। তিনি নেত্রকোনার মদন উপজেলার আব্দুল হাশেমের ছেলে।
নিহতরা হলেন- বোয়ালখালী উপজেলার মীরপাড়ার জালাল আহমদের ছেলে মো. সেলিম (৪৫), মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের মো. আদিলের স্ত্রী অঞ্জনা আকতার (৩৫), পটিয়া করনখাইন গ্রামের বলরাম দে’র ছেলে বাবুল দে (৬০) এবং কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে আবু ফয়েজ (২৫)।নিহত অপরজনের নাম জানা যায়নি। নিহত অপরজনের নাম জানা যায়নি।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, বোয়ালখালীর হাওলাপুরী দরবার শরিফে বুধবার উরস শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসা লোকজন সকালে বাসে করে ফিরে যাওয়ার সময় উপজেলার রায়খালী ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এ ঘটনায় পাঁচ জন মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন সুমন গণমাধ্যমকে জানান, অটোরিকশাটি পটিয়া থেকে বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতুর দিকে যাচ্ছিল। রায়খালী সেতুর মোড়ে বিপরীতমুখী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অটোরিকশায় চালকসহ ছয় জন আরোহী ছিলেন।
এর মধ্যে ঘটনাস্থলে চারজনের মৃত্যু হয়। দু’জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে আহত একজন মারা যায়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক জানান, আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে দু’জনকে আনার পর চিকিৎসক আবু ফয়েজকে মৃত ঘোষণা করেন। আবদুল জলিল (২৫) নামের আহত আরেক যুবক নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তিনি আরও জানান, মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা আবু ফয়েজ কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতেন। পটিয়া পৌরসভায় জনৈক ফারুক আজমের দোকানে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি নেত্রকোণা থেকে বুধবার ভক্তদের নিয়ে বোয়ালখালী উপজেলা হাওলা দরবার শরীফের ওরশে এসেছিল। সকালে বাসটি আবার ভক্তদের নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছিল। কালুরঘাট সেতু দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সেটি পটিয়া হয়ে শাহ আমানত সেতুর দিকে রওনা দেয়।
খখ/মো মি


