চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইয়াবা কারবারিকে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে ব্যবসায়ী শাহাদাতকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

thai foods

খাসখবর প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইয়াবা কারবারিকে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেনকে (৩২) পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার ঘটনায় একদিনের মধ্যেই দুজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব।

thai foods

গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে শাহাদাতকে হত্যার পর সোমবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে মামলা দায়েরের পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে।

সাতকানিয়া থানা পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে এবং র‍্যাব-৭ সন্দেহভাজন মো. ইসমাইলকে (২৭) গ্রেপ্তার করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ এলাকায় নিজের দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় শাহাদাতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত শাহাদাতকে প্রথমে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিহতের মা ছায়েরা খাতুন (৫৮) বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তানভীর হোসেন তুর্কি, পিচ্চি কামাল, শাহাদাত হোসেন মিশলু, টাইগার ফারুক, আকিবুল ইসলাম আউক্কা, কফিল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, নোমান ও হেলাল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামলার আসামি পিচ্চি কামাল তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। কিছুদিন কারাগারে থেকে সম্প্রতি জামিনে বের হওয়ার পর শাহাদাত তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন— এই সন্দেহ থেকে আসামিরা তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, তাঁর ভাই আসামিদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, মাইজপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য চলছে। দিনরাত মাদক কেনাবেচার হাট বসে, প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারও। আর্থিক সামর্থ্যবান মানুষেরা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এবিষয়ে গণমাধ্যমকে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, ঘটনা ঘটার পরপরই দুই জন আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খখ/মো মি

আগে“ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে”-ডোনাল্ড ট্রাম্প