খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা‘। মোখা’র প্রভাবে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সাইক্লোন শেল্টারে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সিএমপির পুলিশ।

সারা দেশের দুর্যোগপূর্ণ এলাকার মতো চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানা পুলিশও উপকূলীয় এলাকার অবস্থানরত মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গতকাল শুক্রবার রাতে ৮নং মহাবিপদ সংকেত জারির পর আকবরশাহ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে কর্ণফুলী নদী ও সাগরের উপকূলে অবস্থানরতদের নিরাপদ দূরত্বে চলে আসার জন্য মাইকিং করা হয়। জনস্বার্থে গতকাল থেকে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সিএমপির আকবরশাহ থানা পুলিশ।
জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘মোখা’ মোকাবিলায় আকবরশাহ থানাধীন জেলেপাড়া, সোনাইছড়ি, বেড়িবাঁধ এলাকায় জনগনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য গতরাত থেকে মাইকিং করছে। তাছাড়া বেড়িবাঁধ এলাকার জেলেদের নৌযানসহ বিভিন্ন মালামাল হেফাজতে রেখে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। আকবরশাহ্ থানা এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিএমপির আকবরশাহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়ালী উদ্দিন আকবর জানান, সিএমপির কমিশনার স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী আকবরশাহ থানাধীন জেলেপাড়া, সোনাইছড়ি, বেড়িবাঁধ এলাকায় জনগনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য গতরাত থেকে মাইকিং করছি। উপকূলের বেড়িবাঁধ এলাকার জেলেদের নৌযানসহ বিভিন্ন মালামাল হেফাজতে রেখে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। আকবরশাহ্ থানা এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সিএমপির সদরদফতরে চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
শনিবার (১৩ মে) বিকেলে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সিএমপি কমিশনার
কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ‘মোখা’ সংক্রান্ত দুর্যোগকালীন যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৭ হাজার অফিসার-ফোর্স প্রস্তুত আছে।
ইতোমধ্যে পতেঙ্গা সি বিচ, পারকি বিচ, মেরিন ড্রাইভ রোডসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মাইকিং করা এবং বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে এবং একইসঙ্গে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী, ঘূর্ণিঝড়কালীন এবং পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের সেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে বা তথ্য জানার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নগরবাসীকে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ।
এদিকে এডিসি (ক্রাইম) মো. জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ২৪ ঘন্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে সিএমপি। ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত নগরবাসীর ফোন রিসিভ করবে এবং সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করবে।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মোবাইল নম্বর সমূহ-০১৬৭৬১২৩৪৫৬, ০১৩২০০৫৭৯৮৮, ৬৩০৩৫২, ৬৩০৩৭৫ ও ৬৩৯০২২।
খখ/মো মি


