



খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার গতি বেড়ে গেছে। আগে যেখানে ঘণ্টায় ৮ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছিল, এখন তা এগোচ্ছে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার বেগে। এই গতিতে এগোলে শনিবার মধ্যরাতেই ঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব উপকূলে পড়তে শুরু করবে।
একইভাবে রবিবার (১৪ মে) সকাল নাগাদ বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূলে আছড়ে পড়বে। উপকূল থেকে মোখা এখন মাত্র ৫২৫ কিলোমিটার দূরে আছে, গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, প্রবল বাতাস, প্রবল বৃষ্টি এবং ঝড়ের ঢেউ উপকূলে আঘাত হানবে, যা বিধ্বংসী পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
ধেয়ে আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতজনিত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামে প্রায় নয় হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীতে সাত হাজার এবং সারা জেলায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনার ভিত্তিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর (সিএমপি) ও জেলা পুলিশ নিজ নিজ দফতরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সিএমপির পতেঙ্গা, বন্দর, হালিশহর, আকবরশাহ, খুলশী, বাকলিয়া থানার পুলিশও মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করছে।
সিএমপির পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় গণমাধ্যমকে জানান, নগরীর ১৬ থানাসহ সকল ইউনিটকে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানার নিয়মিত অফিসার-ফোর্সসহ সাত হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত আছে।’
ইতোমধ্যে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, পারকি সৈকত, মেরিন ড্রাইভ রোডসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ও পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এসব এলাকায় এবং বিশেষ টিম মোতায়েন করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) স্পিনা রাণী প্রামাণিক গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার (১৩ মে) দামপাড়ায় সিএমপির সদর দফতরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অপরাধ) মো. জাহাঙ্গীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে এডিসি জাহাঙ্গীর আলম- ০১৩২০০৫২১২০ ছাড়াও ০১৬৭৬১২৩৪৫৬, ০১৩২০০৫৭৯৮৮, ৬৩০৩৫২, ৬৩০৩৭৫, ৬৩৯০২২ নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়কালীন এবং পরবর্তী সময়ে যেকোনো ধরনের সেবার উদ্দেশে বা তথ্য জানার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নগরবাসীকে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। স্পিনা জানান, ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত তথ্য দিতে নগরবাসীর কল গ্রহণ করবে এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করবে।
এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও ২৪ ঘণ্টার জন্য জরুরি সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এতে ফোকাল পয়েন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) কবীর আহম্মেদ। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ০১৩২০-১০৭৪০২, ০১৩২০-১০৮৩৯৮, ০১৩২০-১০৮৩৯৯ ও ০২-৪১৩৫৫৫৪৯ নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জেলার ১৭টি থানা ও রিজার্ভ ফোর্স মিলিয়ে দুই হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত আছে।
বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ, উপকূলীয় বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, জোরারগঞ্জ, চন্দনাইশ থানা ও এর আওতাধীন বিভিন্ন ফাঁড়ি এলাকায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। জেলার ১৭ থানায় মোট ৯৪১ সাইক্লোন সেন্টারে জনসাধারণকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি আছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের।
এছাড়াও জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উপদ্রুত এলাকায় চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, ছিনতাই প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
খখ/মো মি


