খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সম্পত্তির লোভে নিজের ছোট ভাইয়ের বৌকে খুন করে অগ্নিকাণ্ডের
নাটক সাজান ভাসুর। অবশেষে থানার ওসির বিচক্ষণতায় হত্যাকারি ভাসুর ও তার স্ত্রী ধরা পড়ল পুলিশের হাতে।
বুধবার (২৪ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ রোকসানাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ‘অগ্নিকাণ্ড’র নাটক সাজান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদের সন্দেহ হলে তিনি নিহতের স্বামী, ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার মূল কারণ উদঘাটিত হয়।
পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে ‘সম্পত্তির লোভে’ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ রোকসানার হত্যাকারি ভাসুর গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জানা গেছে, সম্পত্তির লোভে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিজের আপন ছোট ভাই ও ভাইয়ের বউকে খুন করার পরিকল্পনা করেন বড় ভাই গোলাম মোস্তফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ভাইয়ের বউকে খুন করে অগ্নিকাণ্ডের নাটকও সাজান। তবে পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে গেলেই অবসান ঘটে নাটকের। পরে থানার ওসি সন্দেহজনক অবস্থায় গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রীকে আটক করে। আটকের পর প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২৫ মে) চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তারা।
নিহত ওই গৃহবধূর নাম রোকসানা আক্তার (২০)। তিনি উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জোরবটতল এলাকার মুনসুর আহমদের নতুন বাড়ির আনোয়ার কিবরিয়ার স্ত্রী।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের সময় বিভিন্ন আলামত দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হই। পরে নিহতের স্বামী আনোয়ার কিবরিয়া, ভাসুর গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন।
ওসি তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন- গত কিছুদিন ধরে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে গৃহবধূ রোকসানা ও তার ভাসুরের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই জের ধরে আপন ছোটভাই মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার কিবরিয়া ও তার স্ত্রী রোকসানাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। প্রথমে রোকসানাকে ও পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে আনোয়ারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই অনুযায়ী ঘটনার দিন দোকান থেকে কেরোসিন ও হ্যান্ড গ্লাভস কিনে আনেন মোস্তফা। দুপুর ১২টার দিকে রোকসানার ঘরে প্রবেশ করে কাঠের শক্ত টুকরা দিয়ে মাথার পিছনে তিনটি আঘাত করেন গোলাম মোস্তফা। মাথায় আঘাত পেয়ে রোকসানা খাটে চিৎ হয়ে পড়ে যান। কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয়। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর কেরোসিন তেল ও কাপড় নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পাশেই গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। তাদের ধারণা ছিল আগুনে সিলিন্ডার বিষ্ফোরিত হলে সবাই বিষ্ফোরণে মৃত্যু বলে মেনে নেবে। কিন্তু সিলিন্ডার বিষ্ফোরিত হওয়ার আগেই মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে থানায় নিয়ে আসে।
খখ/মো মি


