খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামে ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় রীমা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মো. তানভীর ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় শহীদুল ইসলামকে ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজের ভিতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দূর্গাপূজা ও নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও নাশকতা সৃষ্টির জন্য হিযবুত তাহরীরের একটি দল চট্টগ্রামে সক্রিয় হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৮ অক্টোবর) রাতে নগরীর কোতোয়ালী থানার শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়কে রীমা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পোস্টার লাগানোর সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পালিয়ে যাওয়া আরেকজনকে ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাঁশখালী থানার গুনাগরী কামাল মাস্টার বাড়ীর আবু তাহের ছেলে আবু হাসান মো. তানভীর (২৮) ও একই থানার পশ্চিম ইলশা মনু মাঝির বাড়ির নুরুল আনোয়ারের ছেলে মো. শহীদুল ইসলাম (৩২)।
কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার অতনু চক্তবর্তী বলেন, জামালখানের রীমা কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় নির্ভর যোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর সক্রিয় সদস্য আবু হাসান মো. তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সরকারবিরোধী নয়টি পোস্টার, আঠা, একটি টিপ ছোরা ও দুইটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তানভীর জিজ্ঞাসাবাদে মো. শহীদুল ইসলাম ও আদিলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাত জন আসামির নাম বলেন। সকলেই হিযবুত তাহরীর সক্রিয় সদস্য, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী পোষ্টার প্রচারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার লক্ষ্যে অবস্থান করেছিল। তানভীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজের ভিতরে অভিযান চালিয়ে শহীদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
শহীদুল ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজের বিদ্যালয় শাখার সহকারী শিক্ষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল কবীর জানিয়েছেন, দূর্গাপূজা ও জাতীয় নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও নাশকতা সৃষ্টির জন্য হিযবুত তাহরীরের একটি দল চট্টগ্রামে সক্রিয় হয়ে
তৎপরতা চালাচ্ছিল। শহীদুল ইসলাম ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। তানভীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইনের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি মোবাইল প্রযুক্তি নিয়ে সফটওয়্যার কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল বলে তারা স্বীকার করেছে। পরে গ্রেপ্তার দুই জন সহ আরও জনের অজ্ঞাত ৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কোতয়ালী থানার এনায়েত বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোমিনুল হাসান জানান, ‘৭-৮ জন মিলে রীমা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দেয়ালে হিযবুত তাহরিরের পোস্টার লাগাচ্ছিল। খবর পেয়ে ওসি স্যারের নেতৃত্বে অভিযান চালাই। তানভীরকে আমরা হাতেনাতে ধরে ফেলি। তবে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর শহীদুল ও আদিল নামে আরও দুই সদস্যের তথ্য প্রকাশ করে।’তথ্যের ভিত্তিতে ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভ্যন্তরে বাসায় অভিযান চালিয়ে শহীদুলকে গ্রেফতার করি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য তারা মাঠে নেমেছে। রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী উসকানিমূলক পোস্টার, লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি তাদের নাশকতার পরিকল্পনাও ছিল। বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে তারা গোপন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।’
খখ/মো মি


