মোহন মিন্টু, খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচিত চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরাস্থ এক্সেস রোডে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবীতে “ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলা, ভাংচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ২২ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ, সিএমপি’র একাধিক টিম ও র্যাব-৭। হামলাকারিদের পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যাম্বুলেন্স জব্দ এবং ৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ডিডিএন নামক ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের পরিবহন কাজে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে পুলিশ৷ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানা পুলিশ ও র্যাব-৭ পৃথক অভিযানে এই ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে৷

এবিষয়ে চকবাজার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর হোসেন মামুন জানান, সেদিনের ঘটনায় অংশ নেয়া হামলাকারীদের বহনকারী গাড়িটি (অ্যাম্বুলেন্স) চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানা এলাকা থেকে জব্দ করা হয়েছে৷ একই সময় অভিযান চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ মহিউদ্দিন (৩১) কে গ্রেফতার করা হয়৷ গ্রেফতারকৃত মহিউদ্দিন রাউজানের ১২ নং উরকিরচর ইউনিয়নের মৃত মোঃ শরিকের ছেলে৷
এদিকে রবিবার (১৯ জুলাই) র্যাব-৭(চট্টগ্রাম) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সিসিটিভি ফুটেজে সনাক্তকৃত মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আরো ৯ জন আসামীকে ঘটনায় ব্যবহৃত ৪টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে৷ র্যাব-৭ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ তুহিন (২২), পিতা-মৃত মোঃ করিম, আকবর হোসেন (৩৮), পিতা-মৃত মাহমুদ আলী, মোঃ আব্দুল মুমিন (৩০), পিতা-মৃত সাত্তার আলী, রোহেন মিয়া প্রকাশ মাইক্যাল (৩১), পিতা-আব্দুল কাইয়ুম, মোঃ মাসাদ মিয়া (২৭), পিতা-সাত্তার , মোঃ দিদার মিয়া (২২), পিতা-মোঃ ছেরাগ আলী, মোঃ সানজাত হাসান (১৮), পিতা-আবুল হোসেন, সৈরত হোসেন (১৮), পিতা-গোলাম কিবরিয়া, মোঃ সাইফুদ্দিন (৩২), পিতা-বদিউল আলম।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, একই ঘটনায় পৃথক অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৃথক অভিযানে এ পর্যন্ত মোট সর্বমোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হামলার পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য উদঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে। আলোচিত ডেভিড ইমনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তার অবস্থান শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকার মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, কাচের দরজা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া অফিসের ড্রয়ার থেকে ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাধের ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৩ জুলাই চকবাজার থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫, ৩৮০, ১০৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়।
ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের একাধিক মামলা রয়েছে।
খখ/মো মি


