খাসখবর নির্বাচন ডেস্ক: সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ নিয়েছেন। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রথমে আওয়ামী লীগের ৪৮ জন এবং পরের ধাপে জাতীয় পার্টির দুই জন সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার। শপথের পরে তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদে উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, চিফ হুইপ নুরে ই আলম চৌধুরী , হুইপ আবু সাঈদ স্বপন, ইকবালুর রহিমসহ অনেকেরই উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আবদুস সালাম। নবনির্বাচিত নারী এমপিরা আজ বিকেল পৌনে ৫টায় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নাম ঠিকানাসহ গেজেটটি প্রকাশ করে। পরে গেজেটের কপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়।
গেজেটে বলা হয়, ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৪ অনুসারে রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে বণ্টনকৃত সংরক্ষিত মহিলা আসনসমূহের ভিত্তিতে ধারা ২৬ (২) অনুসারে নির্বাচন কমিশন এতদ্বারা জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, পিতা/স্বামীর নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করিতেছে।’
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ৫০ সংরক্ষিত আসনে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে, ১৯ ফেব্রুয়ারি সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে জমা দেওয়া ৫০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত স্বতন্ত্র ৬২ সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়ায় সংরক্ষিত ৫০ আসনের মধ্যে ৪৮টি পায় আওয়ামী লীগ। আর এমপি পদে বাকি দুটি আসন পায় জাতীয় পার্টি।
সংরক্ষিত নারী আসনে ১ হাজার ৫৫৩টি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে ৪৮ জনের নাম চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা হলেন:
১. দ্রৌপদী দেবী আগরওয়ালা (ঠাকুরগাঁও),
২. মোছা. আশিকা সুলতানা (নীলফামারী),
৩. রেজিয়া ইসলাম (পঞ্চগড়),
8. রোকেয়া সুলতানা (জয়পুরহাট),
৫. কোহেলী কুদ্দুস (নাটোর),
৬. জারা জাবীন মাহবুব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ),
৭. রুনু রেজা (খুলনা),
৮. ফরিদা আক্তার বানু (বাগেরহাট),
৯. মোসা. ফারজানা সুমি (বরগুনা),
১০. খালেদা বাহার বিউটি (ভোলা),
১১. নাজনীন নাহার রশীদ (পটুয়াখালী),
১২. ফরিদা ইয়াসমিন (নরসিংদী),
১৩. উম্মি ফারজানা ছাত্তার (ময়মনসিংহ),
১৪. নাদিয়া বিনতে আমিন (নেত্রকোণা),
১৫. মাহফুজা সুলতানা (জয়পুরহাট)
১৬. পারভীন জামান (ঝিনাইদহ),
১৭. আরমা দত্ত (কুমিল্লা),
১৮. লায়লা পারভীন (সাতক্ষীরা),
১৯. বেগম মন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা),
২০. বেদৌরা আহমেদ সালাম (গোপালগঞ্জ),
২১. শবনম জাহান (ঢাকা),
২২. পারুল আক্তার (ঢাকা),
২৩. সাবেরা বেগম (ঢাকা)
২৪. শাম্মী আহমেদ (বরিশাল),
২৫. নাহিদ ইজাহার খান (ঢাকা),
২৬. ঝর্না হাসান (ফরিদপুর),
২৭. ফজিলাতুন নেসা (মুন্সীগঞ্জ),
২৮. শাহিদা তারেখ দীপ্তি (ঢাকা),
২৯. অনিমা মুক্তি গোমেজ (ঢাকা),
৩০. শেখ আনার কলি পুতুল (ঢাকা),
৩১. মাসুদা সিদ্দীক রোজী (নরসিংদী),
৩২. তারানা হালিম (টাঙ্গাইল),
৩৩. বেগম শামসুর নাহার (টাঙ্গাইল),
৩৪. মেহের আফরোজ (গাজীপুর),
৩৫. অপরাজিতা হক (টাঙ্গাইল),
৩৬. হাছিনা বারী চৌধুরী (ঢাকা),
৩৭. নাজমা আক্তার (গোপালগঞ্জ),
৩৮. রুমা চক্রবর্তী (সিলেট),
৩৯. ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর),
৪০. আশ্রাফুন নেছা (লক্ষ্মীপুর)
৪১. কানন আরা বেগম (নোয়াখালী),
৪২. শামীমা হারুন (চট্টগ্রাম),
৪৩. ফরিদা খানম (নোয়াখালী),
৪৪. দিলোয়ারা ইউসুফ (চট্টগ্রাম),
৪৫. ওয়াসিকা আয়শা খান (চট্টগ্রাম),
৪৬. জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যাঁ (রাঙ্গামাটি),
৪৭. সানজিদা খানম (ঢাকা),
৪৮. মোছা. নাছিমা জামান ববি (রংপুর)।
এ ছাড়া দুইজনকে মনোনয়ন দেয় জাতীয় পার্টি। সালমা ইসলাম ও নূরুন নাহার বেগমকে দুই আসনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
খখ/মো মি


