চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের জন্য খুন করে কলেজছাত্র শাওন বড়ুয়াকে

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: বিয়ে অনুষ্ঠানে ছবি তোলার কথা বলে ডেকে নিয়ে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের জন্য খুন করে কলেজছাত্র শাওনকে। চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের অনন্যা আবাসিকে কলেজছাত্র শাওন বড়ুয়া খুনের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে এতথ্য পেয়েছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। একইসঙ্গে খুনের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

thai foods

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ইমতিয়াজ আলম মুরাদ (২১), আশহাদুল ইসলাম ইমন (২৪), মো. তৌহিদুল আলম (২৩), মো. বাহার (২২) ও মো. আলমগীর (৩০)।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আড়াইটার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পঙ্কজ দত্ত বলেন, ভিকটিম শাওন বড়ুয়া (২৩) চট্টগ্রাম এমইএস কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষে পড়ালেখা করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করতেন। গত সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভিকটিম শাওন বড়ুয়াকে চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় একটি গায়ে হলুদের প্রোগ্রামে ফটোগ্রাফির কথা বলে আসামিরা।

তিনি বলেন, এরপর কৌশলে শাওনকে রাত ১০টার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন অনন্যা আবাসিক এলাকায় নিয়ে যায় তারা। এরপর আসামি মো. ইমতিয়াজ আলম মুরাদ (২১) ভিকটিমের সঙ্গে থাকা ক্যামেরার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দেওয়ায় আসামি মুরাদ ভিকটিমের মাথায়, বুকে, পিঠে ও বাম পায়ের রানের অংশসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ছুরিকাঘাত করে। এরপর শাওনের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে খবর পেয়ে পুলিশ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পঙ্কজ দত্ত আরো বলেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি মোবাইল ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নামে পুলিশ। মোবাইলের কলরেকর্ড যাচাই করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে বাহার সিগন্যাল এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমনের তথ্যে বাকিদের নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে বাহারের কাছ থেকে শাওনের ছিনতাই যাওয়া ক্যামেরা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

চান্দগাঁও থানার ওসি তদন্ত মো. ছবেদ আলী
বলেন, ‘বিয়ে-অনুষ্ঠানে যারা ফটোগ্রাফি করে তারাই ওদের টার্গেট। বিভিন্ন মাধ্যমে নম্বর সংগ্রহ করে নামে-বেনামে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়াই তাদের কাজ। যে নম্বরগুলো ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের ফাঁদ পাতা হয় তার বেশিরভাগেই ছিনতাই করা মোবাইল। ঘটনাস্থলে পাওয়া অপরাধীদের মোবাইল ফোনে আরো অনেক ফটোগ্রাফারের নম্বর পাওয়া গেছে। যার কারণে আঁচ করা যাচ্ছে তাদের সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত আছে— তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

শাওন বড়ুয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার পুরানগড় ইউনিয়নের শীলঘাটা এলাকায়। ওই এলাকার টিপু বড়ুয়ার ছেলে তিনি। পড়ালেখার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শাওন।

খখ/মো মি

আগে“বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে”- প্রধানমন্ত্রী
পরে“দেশ ধ্বংসের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে তৎপর বিএনপি”-ওবায়দুল কাদের