খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: সংখ্যালঘুদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সরকারের প্র্রধান উপদেষ্টাসহ একাধিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
দুপুর তিনটায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের ৪০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই বৈঠক হয়। এসময় একাধিক সংগঠন থেকে ৮ দফা দাবিও তুলে ধরা হয়।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে বলা হয়, ৪ আগস্ট বিকাল থেকে ৫ জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়। পরে ৫ আগস্ট থেকে ৫০টি অধিক জেলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়ি-ঘরে হামলা হয়। যা নিয়ে বেশ কয়েকদিন আন্দোলন করে আসছিল তারা।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলেছে। যা এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় অব্যাহত আছে। এমন পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আজকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তারাও এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চান যা বাংলাদেশের মানুষের মনে আশা এবং আস্থা জাগাতে পারে। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে। তবে বিষয়টা শুরু করতে হবে।”
রানা দাশ গুপ্ত বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা যে আশার বাণীগুলো শুনিয়েছেন, আমরা যে দাবি উপস্থাপন করেছি, এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আমরা মাঠে থাকবো। আমাদের নানা সময়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিন্তু তা পূরণ হয় না। তাই তা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্য মাঠে থাকবো। ”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ” উনি এমন একটা রাষ্ট্র করতে চান যেখানে আর কোনোদিন মন্দির পাহারা দিতে হবে না। আমরা আশান্বিত আমাদের দাবি-দাওয়া যাতে বাস্তবায়িত হয়। আমরা আরেকটা কথা বলেছি যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উনি আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।”
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আমাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে ওই সময়ে তো কোনও সরকার ছিল না। সেটাকে নিবৃত্ত করার মতন কোনও ম্যাকানিজম ছিল না। তারা শান্তিশৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কেউ দেখতে চায় না। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যত ক্ষোভ আছে তা দূর করবো এবং পাশে থাকবো।”
খখ/মো মি


