বাঁশখালীর ১ হাজার ২০০ গরীব-মেধাবী শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই দিল মাস্টার নজির আহমেদ ট্রাস্ট

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ১ হাজার ২০০ গরীব-মেধাবী শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই দিয়েছে মাস্টার নজির আহমেদ ট্রাস্ট।

thai foods

মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে বই বিতরণ অনুষ্ঠানের ১৫ তম আসর বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মাস্টার নজির আহমদ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সদস্য ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মিসেস মরিয়ম বেগম।

অনুষ্ঠানে মাস্টার নজির আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, পুঁইছড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, যাতানুরাইন ফাজিল মাদ্রাসা, জলদি হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসা, রংগিয়াঘোনা মনছুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও শেখেরখীল দারুচ্ছালাম আদর্শ আলিম মাদ্রাসার ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়।

মাস্টার নজির আহমেদ কলেজের অধ্যাপক মফিদুল আলমের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থী ওয়াহিদুল ইসলামের কোরআন তেলওয়াত ও মোহনা সিকদারের গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে উক্ত অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুঁইছড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসাইন, রংগিয়াঘোনা মনছুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মাহফুজুর রহমান, বনশ্রী সেন গুপ্ত ও তুষার কান্তি ভারতী প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, আগে একটি কথা প্রচলিত ছিল, জলদির দক্ষিণে আর দক্ষিণ নেই। আজকে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে শিক্ষার আলো জ্বেলে আমাদেরকে দক্ষিণে এনেছেন কে? আপনারা সেই কথা জানেন? উনি হচ্ছেন বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী মাস্টার নজির আহমদ।

আজকে তার ছেলেমেয়েরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। মাস্টার নজির আহমদ কলেজে অনার্স কোর্স চালু করায় বাঁশখালীর ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষার স্বাদ পাচ্ছে গ্রামে। এই প্রতিষ্ঠান এখন জেলার নামকরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের সদস্য মিসেস মরিয়ম বেগম বলেন, মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্ট আমার মরহুম পিতার রেখে যাওয়া স্মৃতি। আমার পিতা তার জীবদ্দশায় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখেছিলেন। আমরাও যাতে এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারি, এজন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি। পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করা হবে।

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ছেড়ে বই পড়ার আহবান জানিয়ে মিসেস মরিয়ম বেগম বলেন, বই মানুষের অন্ধকার জীবনকে তাড়িয়ে দিয়ে নতুন জীবনের ধারণা দেয়। এখন আমরা সবসময় ইন্টারনেটের পেছনে পড়ে থাকি। ইন্টারনেট ছেড়ে আমাদের বইমুখী হতে হবে। শিক্ষা মানে অনার্স-মাস্টার্স অর্জন করলাম তা নয়। আমাদেরকে স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তাহলে জীবন আলোকিত হবে।

পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে নজির আহমদের সুযোগ্য কন্যা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার বাবা ২০১৪ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। বাঁশখালী নিয়ে উনার অনেক স্বপ্ন ছিল। আমরা বাবার সেই সকল স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছি। আমার ভাই-বোন সকলে মিলে ট্রাস্টের মাধ্যমে মানবিক কাজের মধ্য দিয়ে বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো করে যাচ্ছি।

পুঁইছড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন বলেন, মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের সহযোগিতায় বাঁশখালীর কলেজ-মাদ্রাসার উচ্চ মাধ্যমিক ও আলিম শ্রেণিতে পড়ুয়া এমনকিছু দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তানদের কাছে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ক্রয় করে দিতে পারতেন না। দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ায় মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্ট পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানান।

খখ/মো মি

আগেজুলাই জাতীয় সনদে সই করবে না বামপন্থী ৪ দল
পরেএবার চট্টগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক হলেন সাইফুল ইসলাম