“শেখ হাসিনা জননেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এসেছিলেন, ‘সিস্টেমই তাকে স্বৈরাচারী বানিয়েছে’-আহসান এইচ মনসুর

Oplus_131072
thai foods

খাসখবর অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক: শেখ হাসিনা জননেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এসেছিলেন, ‘সিস্টেমই তাকে স্বৈরাচারী বানিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

thai foods

তিনি বলেন, ”শেখ হাসিনা একজন জননেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এসেছিলেন, স্বৈরাচার হয়ে জন্মাননি। কিন্তু সমাজ যখন নৈতিকতা হারায়, প্রশাসন যখন নিজের অবস্থান থেকে সরে যায়, বুদ্ধিজীবীরা যখন দলীয় স্বার্থে নীরব থেকে যান এবং ভোটার যখন প্রার্থীর যোগ্যতা উপেক্ষা করে শুধু মার্কা দেখে ভোট দেন—তখন আমরাই তাকে এমন অবস্থানে বসাই; যেখানে ক্ষমতা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে। তাই তাকে স্বৈরাচার করেছে সিস্টেম এবং সেই সিস্টেমের নির্মাতা আমরাই।”

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’- শীর্ষক সমাপনী অধিবেশনের সঞ্চালক ছিলেন বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. এনামুল হক।

শেখ হাসিনার সঙ্গে শেষ দিকে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ”আমাদের ব্যবসায়ী কমিউনিটি শেষ দিকের একটি মিটিংয়ে বলেছেন ‘আমি তোমাকেই চাই, বারে বারে শুধু তোমাকেই চাই’। অর্থাৎ, আমাদের ব্যবসায়ী কমিউনিটি বলেছে তাকে ছাড়া দেশ চলবে না; এই যে একটা অবস্থায় আমরা যেই দিকে নিয়ে যাই। এটার পেছনে আমাদের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন।”

গভর্নর বলেন, ”গত ১৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক সমিতি এবং আমাদের ইন্টেলেকচুয়াল গ্রুপ; কোথাও কোনো আলোড়ন আমরা দেখতে পাইনি। এটা দুঃখজনক। যে জায়গাটাকে আমরা সুশীল সমাজ বলি, সেখানকার অবস্থাও অ্যানকম্প্রোমাইজড হওয়া উচিত ছিল। হ্যাঁ আমি কোনো দলকে সমর্থন করতেই পারি, কিন্তু ‘নট বিয়ন্ড নর্ম’।”

তিনি বলেন, ”আমরা যে রাজনৈতিক সংকট এবং গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছি, তার দায় শুধু কোনো নেতা বা সরকারের নয়; বরং সমাজের বিভিন্ন অংশ- ভোটার, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রশাসন; সবাই মিলে নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে। ভোট দেওয়ার দিনটিকেই আমরা গণতন্ত্র ভেবে নিয়েছি, অথচ গণতন্ত্র হল প্রতিদিনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং নেতৃত্বকে নিয়মিত মূল্যায়ন করা।”

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ”যোগ্য প্রার্থী থাকলেও জনগণ মার্কার প্রতি অন্ধ সমর্থনের কারণে তাকে ভোট দেন না। ফলে যারা রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য আনতে পারতেন, তারা হারিয়ে যান। এই সংস্কৃতির ফলেই ক্ষমতা ধীরে ধীরে একচেটিয়া হয়ে পড়ে এবং নেতার চারপাশের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তাকে এমন কাঠামোর কেন্দ্রে ঠেলে দেয়; যেখানে জবাবদিহিতা বিলীন হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, ”জনগণ এখনও প্রার্থীর যোগ্যতা নয়; বরং দল ও মার্কা দেখে ভোট দেন। ফলে যোগ্য নেতৃত্বপথে আসতে পারে না এবং এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরেই স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা জন্ম নেয়।”

গভর্নর বলেন, ”গণতন্ত্র ও উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে চলে; একটিকে দুর্বল রেখে অন্যটিকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব।”

বিশিষ্ট বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ”শক্তিশালী গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব নয়; সুতরাং গণতন্ত্রকে দুর্বল রেখে আর্থিক উন্নয়নের আশা করা বিভ্রান্তিকর।”

খখ/মো মি

আগে“চলতি সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা”-ইসি সানাউল্লাহ
পরেজাপা-জেপির নেতৃত্বে ১৮ দল নিয়ে নতুন জোট ‘এনডিএফ’