খাসখবর মহামারী ডেস্ক➤ প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। সেই সাথে বাড়ছে ভাইরাসটির শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দিন দিন মহামারি আকার ধারণ করছে করোনা ভাইরাস। দেশের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের ঘটনা ঘটলো। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯ হাজার ৫২১ জনে। এর আগে গত ১৯ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫ হাজার ১৯২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এটাই দেশে একদিনে দেশে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ পর্যন্ত দেশে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন দেশে সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫ হাজার ১৯২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৫২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ নয় হাজার ৯৭৫ জন।
সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৩৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩০টি, জিন এক্সপার্ট ৫২টি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ৪৫৭টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৫৩ হাজার ৩১৬টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫০ হাজার ৯৫২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৫ লাখ ছয় হাজার ২৩৩টি।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ হাজার ৩১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫০ হাজার ৯৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৫২ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৭৫ জন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২৪৭ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৩ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছে।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন চার হাজার ৪৪৩ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ৫৫০ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন দুই লাখ ৭০ হাজার ৯৬৯ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৮৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৭৭ হাজার ৯৮৬ জন।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৪১ জন ও মহিলা ১০৬ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ২৬ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, খুলনা বিভাগে ৪৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন, সিলেট বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন মারা গেছেন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
খখ/মো মি


