ঢাকা মাতিয়ে গেলেন অস্কার জয়ী সংগীতশিল্পী এ আর রহমান

'ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হানড্রেড’ কনসার্টে
thai foods

খাসখবর বিনোদন ডেস্ক➤‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হানড্রেড’ কনসার্টে ঢাকা মাতিয়ে গেলেন অস্কার জয়ী সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত কনসার্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

thai foods

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনুষ্ঠানস্থল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাজির হন তিনি।

কনসার্টের দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চে উঠেন খ্যাতনামা সুরকার, অস্কারজয়ী সংগীতশিল্পী এআর রহমান।

ক্রিকেটের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেগ এবং অনুভূতি সব সময়ই শীর্ষে।

জাতীয় ক্রিকেট দলের অনেক ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও জাতীয় ক্রিকেটে যেকোনো ভালো অবদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছেন সব সময়।

এর আগে সন্ধ্যায় শুরু হওয়া কনসার্টের প্রথম পর্বে গান পরিবেশন করেছেন দেশের বিখ্যাত শিল্পীরা। দর্শকদের মুগ্ধ করতে প্রথমেই মঞ্চে উঠেছিল দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস। এরপর মঞ্চে ওঠেন ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ।

সোমবারের সন্ধ্যাটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে মিরপুরের জন্য। রাজধানী আজ ভেসেছে সুরের লহরীতে। শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘ক্রিকেট সেলিব্রেট মুজিব ১০০’ কনসার্টে গেয়েছেন কিংবদন্তির শিল্পী অস্কারজয়ী এ আর রহমান। সঙ্গে ছিল তার সুর করা অনবদ্য সব গানের অনন্য পরিবেশনা। তবে শেষের দিকে এসে হাজারো দর্শককে অশ্রুসজল করলেন গীতিকবি জুলফিকার রাসেলের লেখা ‘জয় বাংলা, জয় বাংলাদেশ’ গেয়ে।

গানটি শুরুর আগে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন রহমান। বাংলাদেশের প্রতিও প্রকাশ করেন অকুণ্ঠ ভালোবাসা। এ সময় প্রেসিডেন্ট বক্স হতে মোবাইল ফোনে গানটির ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে।

এর পরই ‘আমার সোনার বাংলা, বলো জয় বঙ্গবন্ধু, বলো জয় জয় বাংলা’ গেয়ে আরেক দফা আবেগে ভাসান রাহমান। এ গানটিও জুলফিকার রাসেলের লেখা।

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিসিবির উদ্যোগে এ গান দুটি তৈরি হয়।

৪৫ মিনিটের বৃষ্টিতে খানিকটা ছন্দপতন। ফের সুরের জাদুতে মোহাবিষ্ট হওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এরপর চলে শেষ মুহূর্তের সাউন্ডচেক। এ সময় আবার মঞ্চে ‍মেয়েকে নিয়ে উঠে আসেন ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ। ‘পাঙ্খা’ ও ‘লোকাল বাস’ গেয়ে উদ্বেলিত করেন দর্শকদের। অতঃপর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঞ্চে উঠে আসেন মোৎজার্ট অব মাদ্রাজ অস্কারজয়ী এ আর রাহমান।

মঞ্চে এসে শুরুতেই ‘জয় হো’ দিয়ে শুরু করেন তিনি। এরপরই দর্শক মেতে ওঠে ‘মুককালা মোকাবেলা’র সেই চিরচেনা মেলোডি আর রিদমের ইন্দ্রজালে। পুরো গ্যালারি গলায় মেলায়, ‘ওলেও.. ওলে ও ও’। এরপর বেনি দয়ালের কণ্ঠে শোনা যায় ‘রাঙদে বাসন্তি’। এরপরই নব্বইর দশকের কিশোরদের নস্টালজিক করে হরিহরন গাইতে শুরু করেন ‘সপনে’ ছবির ‘চান্দারে চান্দারে’।

এরপর শুরু হয় ’৯৮-থেকে আজ অবধি কানে ঝড় তোলা ‘দিল সে রে..’ । রাহমানের কণ্ঠে দর্শকরাও গলা মেলান, ‘প্রিয়া প্রিয়া জিয়া জিয়া’। বম্বে সিনেমার জন্য রাহমানের সিগনেচার গান ‘তুহি রে’ গেয়ে হরিহরণ আবার ঝড় তুললেন কনসার্টের যাবতীয় প্রেমিক হৃদয়ে। এরপর হারমোনিয়াম নিয়ে বসে পড়েন রাহমান ও অন্য বাদ্যযন্ত্রীরা। পরিবেশন করেন কাওয়ালি ‘মাস্ত কালান্দার’ ও রকস্টার ছবির ‘কুন ফায়া কুন’।

এরপর বিখ্যাত ড্রামার শিবাজি মঞ্চে উঠতেই পুরো স্টেডিয়াম কেঁপে ওঠে দর্শকদের হর্ষধ্বণিতে। পানির জার থেকে শুরু করে বিচিত্র সব অণুষঙ্গ ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত শিবাজি। দর্শক-শ্রোতারাও তাতে সাড়া দিয়েছেন বেশ।

জোনিতা গান্ধি ‘কেহনা হি কেয়া’ বলে টান দিতেই মঞ্চের আবহ বদলে যায় সঙ্গে সঙ্গে। কঠিন এ গানে নৃত্যশিল্পীরাও দাবি রেখেছেন প্রশংসার। এরপরই তুমুল জনপ্রিয় ‘আগার তুম সাথ হো’ গাইতেই গ্যালারিজুড়ে নেমে আসে মুগ্ধতার নীরবতা।

এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এ আর রাহমান। বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়ে বলেন ‘জয় বাংলা’।

হাজারো দর্শককে অশ্রুসজল করে দিলেন ‘জয় বাংলা জয় বাংলা জয় বাংলাদেশ’ গেয়ে। রাহমানের সুর করা গানটি লিখেছেন গীতিকবি জুলফিকার রাসেল। এ সময় প্রেসিডেন্ট বক্স থেকে মুগ্ধশ্রোতা হয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে গানটি ভিডিও করতেও দেখা যায়।

এ গানটির পর পরই ‘আমার সোনার বাংলা… বলো জয় বঙ্গবন্ধু, বলো জয় বাংলা… এক দোস্ত মুজিব হে দিল মে…’ গান এ আর রহমান।

‘লুকাচুপি বহত হুয়ি’ গানটিতে প্রয়াত লতা মঙ্গেশকরের রেকর্ডেড অংশের সঙ্গে লাইভে কণ্ঠ মেলান এ আর রাহমান। কনসার্টে এমন অনন্য পরিবেশনা আর কেউ কখনও দেখেছে কিনা সে প্রশ্ন তোলাই যায়।

এর আগে, অস্কারজয়ী এ আর রাহমান সোমবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় মিরপুরে স্টেডিয়ামে গিয়ে ‘ক্রিকেট সেলিব্রেট মুজিব ১০০’ অনুষ্ঠানের জন্য ঝালিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। কনসার্টে অংশ নিতে রবিবারেই দুশতাধিক সফরসঙ্গী নিয়ে তিনি আসেন ঢাকায়।

অনুষ্ঠানের প্রথম স্লটে পারফর্ম করেছেন মমতাজ ও মাইলস। অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখাচ্ছিল দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল। এরপর মঞ্চে আসেন রাহমান। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় রাত সাড়ে ১২টার দিকে। এসময় সবাইকে বিদায় জানান এ আর রাহমান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিসিবির আয়োজনে ২০২০ সালের মার্চে হওয়ার কথা ছিল মুজিববর্ষ কনসার্ট। করোনার কারণে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিসিবি। করোনার প্রকোপ কমায় এবার ‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব হানড্রেড’ নামে সেই কনসার্ট ফের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেট বোর্ড। এবারও আমন্ত্রণ করা হয় ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এ আর রহমানকে।

খখ/মো মি

আগেআইসিসির র‌্যাংকিংয়ে পাকিস্তানকে ফেলে ছয়ে বাংলাদেশ
পরেডিইউজের নতুন সভাপতি হলেন সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন