১২০ ভরি সোনা আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি হারালেন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন

thai foods

খাসখবর বিভাগীয় ডেস্কঃ চোরাকারবারির কাছ থেকে ‘১২০ ভরি সোনা’ উদ্ধারের পর হয়ে যায় ‘মাদক’। দায়ের করা হয় মাদক মামলা। বিষয়টি চেপে যান সাতক্ষীরা জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন। অতপর সেই ঘটনায় (সোনা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়) চাকরি গেলো সেই এসপির। সাড়ে পাঁচ বছর আগে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার এ ঘটনায় চাকরি হারিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) আলতাফ হোসেন।

thai foods

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার সোনা চোরাকারবারি বিপ্লব চ্যাটার্জির কাছ থেকে ১২০ ভরি সোনা উদ্ধারের পর সেগুলোকে মাদক উল্লেখ করে আত্মসাতের অভিযোগে জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি সর্বশেষ ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট জোনের এসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের সিলেট অঞ্চলে দায়িত্বরত আলতাফ হোসেনকে চাকরি থেকে অপসারণের তথ্য জানিয়ে গত বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

বুধবার (১৮ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

আলতাফ হোসেন ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই থেকে পরের বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর বিপ্লব চ্যাটার্জি নামের এক সোনা চোরাকারবারি আটক হন। তাঁর কাছ থেকে ১২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। পাটকেলঘাটা থানায় উদ্ধার করা সোনার জব্দ তালিকাও করা হয়েছিল।

তবে পরে সোনা চোরাচালানের মামলা না হয়ে এ ঘটনায় মাদকের মামলা রেকর্ড করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসপি আলতাফ হোসেন স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সাজানোর বিষয়টি জানা সত্ত্বেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অসত্য প্রতিবেদন পাঠান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় সাতক্ষীরার তৎকালীন এসপির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৯ সালের ৪ মার্চ পুলিশ সদর দফতরে প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একই বছরের ৪ আগস্ট অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি। ওই বছরের ২১ অক্টোবর তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে উপস্থিত হন।

শুনানিতে তার বক্তব্য যথাযথ মনে না হলে ২০২০ সালের ২৫ জুন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে বিভাগীয় মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আতাউল কিবরিয়া ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আলতাফ হোসেনকে একই বছরের ৩ নভেম্বর আরেকটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি নোটিশের জবাব দেন।

তার জবাব যথাযথ না হওয়ায় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে অপসারণে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে প্রস্তাব করা হয়। কমিশন ৪ এপ্রিল প্রস্তাবিত দণ্ডের সঙ্গে একমত পোষণ করে রাষ্ট্রপতির নির্দেশের জন্য পাঠায়। অবশেষে রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।

খখ/মো মি

আগে“গণকমিশনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই, বিশৃঙ্খলা করলে ব্যবস্থা”-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরেচট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম