“১৯৮১ সাল থেকে ছায়ার মতো নেত্রীর পাশে ছিলেন সাজেদা চৌধুরী”-তথ্যমন্ত্রী

thai foods

খাসখবর রাজনীতি ডেস্কঃ তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, বর্ণাঢ্য সংগ্রামী জীবনের অধিকারী ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে যখন দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তখন থেকেই সাজেদা চৌধুরী ছায়ার মতো নেত্রীর পাশে ছিলেন।

thai foods

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস তো বটেই, বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে হলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নাম লিখতে হবে। তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৪টা ১৫ মি. পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণমানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় সাজেদা চৌধুরীর কফিন। এ সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

সাজেদার স্মৃতিচারণ করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা বলেন, তার সঙ্গে পরিচয় ছাত্র জীবনে। তিনি আমাদের নেত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অক্ষয় ও অমর হয়ে থাকবেন সাজেদা আপা। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবক হারাল।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ও উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

সিনিয়র সাংবাদিক গাজী নাসিরুদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই কেবল সাজেদা চৌধুরীর গুরুত্ব রয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতে নেই, এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। ১৯৭৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভার বয়ে গেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালের সম্মেলনে তাকে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ সম্পাদক করা হলো তখন তোফায়েল আহমেদসহ সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে লড়াই করে উঠে আসা নারীদের অগ্রপথিক সাজেদা চৌধুরীই। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাস লিখলে তাকে বাদ দিয়ে লেখা সম্ভব না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাজেদা চৌধুরী থাকবেন। সামাজিক ইতিহাস লেখা হলে সেখানেও তিনি থাকবেন।

প্রসঙ্গত, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সৈয়দা। ১৯৬৯-১৯৭৫ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২-১৯৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৈয়দা।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন সাজেদা চৌধুরী।

খখ/মো মি

আগেবনানীর কবরে চির নিদ্রায় শায়িত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী
পরেরাজা তৃতীয় চার্লসকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা