মোবাইল ফোন উদ্ধারে সিএমপিতে সেরা এসআই আনোয়ার

thai foods

খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: চুরি হওয়া কিংবা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে সফলতা দেখিয়ে ইতিমধ্যে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন সিএমপির চান্দগাঁও থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন।

thai foods

চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারে নিবেদিত প্রাণ পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার গেল সাত মাসে সাত শতাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানার পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন মোবাইল চোরদের কাছে যেন মূর্তিমান এক আতঙ্ক। চট্টগ্রাম নগরীর যে প্রান্তেই মোবাইল চুরি হোক কিংবা হারিয়ে যাক, মোবাইল ফিরে পেতে ছুটে আসেন আনোয়ারের কাছে। তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোবাইল উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন মালিকের কাছে।

এভাবে চাকরি জীবনে এক হাজারেরও বেশি  মোবাইল উদ্ধার করেছেন এসআই আনোয়ার। যার মধ্যে গেল সাত মাসে উদ্ধার করেছে চুরি হওয়া কিংবা হারিয়ে যাওয়া সাত শতাধিক মোবাইল।

সিএমপি’র চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারে অসামান্য দক্ষতা দেখাচ্ছেন এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার। গত সাত মাসে সাত শতাধিক চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করেছে। যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। তার কাজ সহজ করতে আমরাও সার্বিক সহায়তা করছি।

এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, মোবাইল চুরির যত অভিযোগ আসে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই থাকে সমাজের নিম্নআয়ের মানুষ। তারা অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে শখ করে একটি মোবাইল কিনেন। কিন্তু সেই মোবাইল যখন চোর নিয়ে যায়, তখন তাদের কষ্টের শেষ থাকে না। আমি চেষ্টা করি শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের লোকজনের মোবাইল দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করে দিতে। মোবাইল উদ্ধারের পর তারা তৃপ্তির যে হাসি দেয়, তা আমার মনকে প্রশান্তি দেয়।

এসআই আনোয়ার হোসেন মোবাইল ফোন উদ্ধারের শুরুটা বর্ণনা করেন এভাবে- ২০১০ সালের কথা। তখন আমি সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত সিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগে।

এক গার্মেন্টস কর্মীর চুরি হওয়া শখের মোবাইল উদ্ধারের দায়িত্ব দেয়া হয় আমাকে। ওই গার্মেন্টস কর্মীর মোবাইলটা স্বল্প সময়ের মধ্যে উদ্ধার করি। উদ্ধারের পর ওই গার্মেন্টস কর্মীর আনন্দ দেখে অনুপ্রাণিত হই। এরপর থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধারে মনোনিবেশ করি।

এরপর থেকে মোবাইল উদ্ধারে ছুটে চলা এসআই আনোয়ারের। শুরুতে নানান প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্ধারের গতি কম হলেও বর্তমানে সিনিয়র অনেক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ফলে গতি এসেছে কাজে। তিনি বর্তমানে সিএমপি’র চান্দগাঁও থানায় কর্মরত হলেও নগরীর বিভিন্ন থানার লোকজনও ছুটে আসেন তার কাছে হারানো মোবাইল ফিরে পেতে।

শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের প্রায় ২৫টি জেলা থেকে মোবাইল উদ্ধারের রেকর্ড রয়েছে তার। যার মধ্যে ভোলা জেলার চরফ্যাশন, চর জব্বার, লালমোহন উপজেলা যেমন রয়েছে। তেমনি তিনি মোবাইল উদ্ধার করেছেন পটুয়াখালী, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কক্সবাজার, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, নায়রানগঞ্জসহ দেশের প্রত্যন্ত নানান এলাকা থেকে। এ পর্যন্ত চুরি হওয়া যত মোবাইল উদ্ধার করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস কর্মী, সিএনজি টেক্সি চালক, রিকশাচালকসহ সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের।

এসআই আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোন উদ্ধারের সফলতার কাহিনি ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমানে সিএমপির অন্যান্য থানাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে।

খখ/মো মি

আগেএলপিজির দাম বাড়লো এক লাফে ২৬৬ টাকা
পরেচোরাই মোবাইলের আইএমআই নম্বর পরিবর্তনকারী শহীদুলসহ গ্রেফতার ৪, ১৮টি মোবাইল ও ১টি কম্পিউটার উদ্ধার