খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁওয়ের পশ্চিম মোহরা এলাকা থেকে অপহরণ হওয়া তিন বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) পাঁচলাইশ ষোলশহর পুলিশ বক্সের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু আবদুল্লাহকে।
দু’দিন আগে খেলতে গিয়ে হারিয়ে যায় ৩ বছর বয়সী শিশু আব্দুল্লাহ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশু আব্দুল্লাহ বোরকা নিকাবে আবৃত এক নারীর পিছু পিছু হাঁটছে। বোরকা পরিহিত ওই নারীই কৌশলে আব্দুল্লাহকে অপহরণ করেছে বলে ধারণা পুলিশের। তাই সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া অপহরণের সূত্র ধরেই উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ।
৩৬ ঘণ্টা পর আজ দুপুর ১২টার দিকে ষোলশহর পুলিশ বক্সের সামনে জীবিতই পাওয়া গেল শিশু আব্দুল্লাহকে। পুলিশের তৎপরতায় ভয় পেয়ে অপহরণকারী নিজেই শিশুটিকে রেখে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর বিকেল ৩টায় চান্দগাঁও থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পংকজ দত্ত।
এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের পশ্চিম মোহরার কুলা পাড়া রুহুল আমিনের বাড়ি সামনে থেকে অপহরণ হয় শিশু আব্দুল্লাহ।
আব্দুল্লাহ ওই এলাকার দুবাই প্রবাসী মাহবুব আলমের ছেলে। মাহবুবের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। এরমধ্যে আব্দুল্লাহ চতুর্থ। আব্দুল্লাহর ছোট ৮ মাস বয়সী আরেকটা ছেলে সন্তান রয়েছে মাহবুব আলমের।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পংকজ দত্ত বলেন, ‘গত ৪ সেপ্টেম্বর বাসার সামনে থেকে শিশু আব্দুল্লাহ অপরহণ হয়। এ ঘটনা ভুক্তভোগী শিশুর মা থানায় অবহিত করেন। তখন থেকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্ধারে অভিযানে নামি। অন্যান্য মামলাগুলোর চেয়ে শিশু অপহরণ বা নিখোঁজের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিশু আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করতে ৬/৭টি টিমে ভাগ হয়ে কাজ করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে যেই নারীকে দেখা গেছে তার গন্তব্য কোন দিকে ছিল সেটা নিয়েই মূলত কাজ শুরু করা হয়। প্রযুক্তিগত সবদিকগুলো এনালাইসিস করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে গোলাপের দোকান মাজার গেট এলাকায় অভিযুক্ত ওই নারীর সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর থেকে ওই এলাকায়সহ বিভিন্ন জায়গায় বিরতিহীনভাবে টানা ৩৬ ঘণ্টার সাড়াশি অভিযান চালানো হয়। পরে আজ বুধবার ১২টার দিকে ষোলশহর পুলিশ বক্সের সেখানে এক শিশুকে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় এ শিশুটিই দু’দিন আগে অপহৃত তিন বছর বয়সী শিশু আব্দুল্লাহ।’
এডিসি পংকজ দত্ত বলেন, ‘আমাদের মূল ফোকাস ছিল আগে বাচ্চাটিকে তার মায়ের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া। আমরা বাচ্চাটিকে ভালোভাবেই উদ্ধার করতে পেরেছি। তবে অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এছাড়া আসামি কেনই-বা শিশুটিকে রেখে গেল বা দিয়ে গেল তার একমাত্র কারণ পুলিশের অনবদ্য চেষ্টার ফল। আমরা অত্যন্ত খুশি বাচ্চাটিকে ভালোভাবে ফিরিয়ে দিতে পেরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া ওই নারীকেই লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছি। এতদিন আমরা ওই নারী কিভাবে নিয়ে গেছে ওই পথ ধরে কাজ করছিলাম। তবে আজ থেকে ওই নারী কিভাবে বাচ্চাটিকে রেখে গেছে সেই পথ ধরে কাজ করবো। আমরা ভালোভাবে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। এবার আমরা প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে পারলেই অপহরণের আসল কারণ জানা যাবে।’ একইসঙ্গে প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকার কথাও জানান তিনি।
চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল ইসলাম বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চান্দগাঁওয়ের পশ্চিম মোহরা হাজী নাজির লেইনের রুহুল আমিনের বাড়ি থেকে অজ্ঞাত এক নারী কৌশলে শিশু আব্দুল্লাহকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওইদিনই শিশুর পরিবার থানায় অপহরণ মামলা করে। আজ সকালে পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে আমাদের চান্দগাঁও থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নারীকে ধরতে আমাদের অভিযান চলছে।
আমরা ধারণা করছি পুলিশের তৎপরতার কারণে ভয় পেয়ে অপহরণকারী নিজেই শিশুটিকে ফেলে চলে যায়। অজ্ঞাত অপহরণকারীকে ধরতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
খখ/মো মি


