বহদ্দারহাটে রাব্বি হত্যা: শেখ হাসিনার সাথে এবার আসামি হলেন এমপি-কাউন্সিলররাও

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগরের কয়েকটি আসনের সদ্য সাবেক এমপি এবং প্রায় সব কাউন্সিলরসহ ৩৭০ জনকে আসামি করে চট্টগ্রামে আরেকটি হত্যা মামলা হয়েছে।

thai foods

মামলার বাকি আসামিরাও আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ৪ আগস্ট সংঘটিত ফজলে রাব্বি হত্যা নিয়ে মামলাটি হলেও ওই দিন বহদ্দারহাটে নিহতের এমন ঘটনা আগে জানতই না পুলিশ!-এমনটি জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল কবির।

বুধবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাতে নগরের পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম তার ছেলে মো. ফজলে রাব্বীকে হত্যার অভিযোগ এনে চান্দগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামি হিসেবে উল্লেখযোগ্য আরও আছেন— নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু, এম এ লতিফ, আবদুচ ছালাম (এম এ সালাম) ও এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন, চসিকের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনসহ নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৭ জন কাউন্সিলরকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন— শৈবাল দাশ সুমন, এসরারুল হক, আব্দুর ছবুর লিটন, মোবারক আলী, মোরশেদুল আলম, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, গিয়াস উদ্দিন, জহরলাল হাজারী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, জিয়াউল হক সুমন, পুলক খাস্তগীর, নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, মো.ওয়াসিম, নুরুল আলম মিয়া, আব্দুস সালাম মাসুম, গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, আসলাম হোসেন, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, মোরশেদ আলী, এইচ এম সোহেল, জাফরুল হায়দার সবুজ, মো. ইসমাইল, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, জহুরুল আলম জসীম ও আতাউল্লাহ।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট বহদ্দারহাটে রাব্বি নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তার বাবা একটি মামলা করেছেন। তবে আমার জানা মতে, সেই দিন বহদ্দারহাটে কেউ নিহত হয়নি। আজকেই বিষয়টি জানলাম। মামলায় ২৭০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।’

এবিষয়ে মামলার বাদী মো. সেলিম বলেন, ‘আমিতো আসলে ছিলাম না ওইখানে। যারা ছিল তারা তথ্য দিয়েছে আমার ছেলে কিভাবে মারা গেছে। জেনেছি, গত ৪ আগস্ট মাগরিবের আজানের পরপরই বহদ্দারহাটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার ছেলে মারা গেছে। সে ভোলায় একটি স্কুলে পড়ালেখা করতো।’

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট বিকেলে নগরীর চান্দগাঁও থানার মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ চলছিল। বাদীর ছেলে ফজলে রাব্বি সেই সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশে নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একদল সন্ত্রাসী সমাবেশে হামলা করে বহদ্দারহাট মোড় থেকে চান্দগাঁও থানার মোড় পর্যন্ত এলাকায় বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করে। আসামিদের ছোঁড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে ফজলে রাব্বী পেটে ও বাম কানে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে নগরীর ও আর নিজাম রোডে রয়েল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খখ/মো মি

আগেচসিকের ৪৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা
পরেবাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা: ডম্বুর-ফারাক্কা বাঁধে কী ঘটছে? ‌