খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকায় প্রেমিককে আটকে রেখে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানায়, ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীর প্রেমিককে আটকে রেখে তাকে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় আবুল কালাম (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সিএমপির খুলশী থানার বিপরীত পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আবুল কালাম নামে একজনকে আটক করা হয়।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোরী ও তার সঙ্গে থাকা কিশোরের বাড়ি কুমিল্লায়। তারা বিয়ে করতে সোমবার কুমিল্লার বাড়ি থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে এসেছিল বলে জানিয়েছে।
ওসি মজিবুর বলেন, রাতে তারা ট্রেনে করে চট্টগ্রাম আসার পর একটি সিএনজি ভাড়া করে। সেটি নিয়ে বিভিন্ন দিকে ঘোরাঘুরি করেছিল। তারা জানিয়েছে, পথে কিছু যুবক নিরাপদে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে নির্মাণাধীন একটি ভবনে নিয়ে যায়। “সেখানে একটি কক্ষে কিশোরীর সাথে থাকা কিশোরকে আটকে রেখে চার যুবক মিলে ধর্ষণ করে। পরে তাদের সাথে আরও এক যুবক এসে যুক্ত হয়।”
ওসি জানান, স্থানীয় কিছু লোক বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীর সাথে থাকা ছেলেটিকে নিয়ে আবুল কালাম নামে একজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দুইজনকে উদ্ধার করার পাশাপাশি কালামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
খুলশী থানার ওসি আরও বলেন, শারীরিক পরীক্ষার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তরুণীর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।
কিশোরীর প্রেমিক জানান, কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সোমবার বিকেল ৩টায় রওনা দিয়ে দুজন পাহাড়তলী রেলস্টেশনে নামি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝাউতলা রেল স্টেশনে আসি। পাহাড়তলী রেললাইন ধরে হেঁটে হেঁটে যাই। আমরা পথ চিনি না বললে আমাদের সাহায্য করার নাম দিয়ে এক পাশে নিয়ে যায়। সেখানে ৪/৫ জনের একটি গ্রুপ ছিল। পরে আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে চলে যেতে বলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় কিশোরী বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তিনি আরও জানান, যারা এ ঘটনায় জড়িত তারা সবাই খুলশী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের নামে চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা আছে।’
খখ/মো মি


