খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথধামে শিব চতুর্দশী তিথি উপলক্ষে তিনদিনের তীর্থমেলা শুরু হবে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। প্রায় ৩০০ বছর ধরে চলমান এ মেলায় এ বছর হচ্ছে না বৈদিক সম্মেলন।
শিবচতুর্দশী তিথি উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামের পাশাপাশি ফটিকছড়ির কাঞ্চননাথ ধাম ও কক্সবাজারের মহেশখালীর আদিনাথেও তিন দিনের তীর্থযাত্রা আগামী মঙ্গলবার শুরু হবে। একই সঙ্গে তীর্থযাত্রা উপলক্ষে শুরু হবে ১৫ দিনের মেলা। দোলপূর্ণিমার মধ্য দিয়ে এ মেলা শেষ হবে।
মূলত তিন দিনের উৎসব হলেও মেলা চলবে ১৫ দিন। দোল পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে শেষ হবে মেলা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড স্রাইন (তীর্থ) কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ।
চন্দ্রনাথ ধাম, আদিনাথ ধাম ও কাঞ্চননাথ ধামের তীর্থ পরিচালনা করে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি।
প্রতি বছর স্রাইন কমিটির প্রধান কার্যালয় মোহন্ত আস্তান বাড়িতে বৈদিক সম্মেলন ও ঋষি সমাবেশ করা হতো। সম্মেলনে ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করতেন আগত সাধু-সন্ন্যাসীরা। আয়োজন করা হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। তবে এবার বৈদিক সম্মেলন না হলেও সম্মেলনস্থলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের থাকা ও প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির দায়িত্বশীলরা।
কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, তীর্থযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্য যেখানে বৈদিক সম্মেলন হতো, সেখানে ছাউনি করা হচ্ছে। ফলে তীর্থযাত্রীদের থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৈদিক সম্মেলন করা হচ্ছে না।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি শিব চতুর্দশী তিথি। এদিন অনেক তীর্থযাত্রী উপোস থেকে পাহাড় চূড়ায় যাবেন শিবদর্শনে। পরদিন অমাবস্যা তিথিতে মৃত পূর্বপুরুষের জন্য শ্রাদ্ধ করেন অনেকে। এবার অন্তত ১০ লাখ ভক্ত সমাগম হবে বলে আশা করছি। এ জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিঁড়ি নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, পর্যাপ্ত লাইটিং, সিসি ক্যামেরা সংযোজন, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিব চতুর্দশী মেলা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মেলার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। সভায় সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, এবার জনসমাগম বেশি হবে। সেজন্য গতবারের তুলনায় ২০০ সদস্য বাড়িয়ে মোট ৬০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির। সীতাকুণ্ড পৌর সদরে মন্দির সড়ক হয়ে অর্ধশতাধিক মঠ-মন্দির প্রদক্ষিণ করে সর্বশেষ চন্দ্রনাথমন্দিরে পৌঁছান তীর্থযাত্রীরা। সীতাকুণ্ডে রয়েছে সতীর একান্ন পীঠের একটি ভবানী মন্দির। এ ছাড়া রয়েছে স্বয়ম্ভূনাথ মন্দির, বিরূপাক্ষ মন্দির, ভৈরব মন্দির, সীতা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির সহ অনেক ধর্মীয় স্থাপনা।
প্রতিবছর স্রাইন কমিটির প্রধান কার্যালয় মোহন্ত আস্তান বাড়িতে বৈদিক সম্মেলন ও ঋষি সমাবেশ করা হতো। সম্মেলনে ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করতেন আগত সন্ন্যাসীরা। আয়োজন করা হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। কিন্তু এবার এ অনুষ্ঠানের কিছুটা পরিবর্তন করেছে স্রাইন কমিটি। এবার বৈদিক সম্মেলন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তবে সম্মেলনস্থলে দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের থাকা ও প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্রাইন কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, এবার দূরদূরান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্য যেখানে বৈদিক সম্মেলন হতো, সে স্থানে ছাউনি করা হবে। তীর্থযাত্রীদের থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৈদিক সম্মেলনটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে তীর্থ শুরু হয়:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথমন্দির। শিবচতুর্দশী তিথিতে তীর্থ করতে আসা যাত্রীদের লক্ষ্য থাকে চন্দ্রনাথমন্দিরে পৌঁছে শিবদর্শন করা। সীতাকুণ্ড পৌর সদরে পৌঁছার পর মন্দির সড়ক হয়ে অর্ধশতাধিক মঠ-মন্দির প্রদক্ষিণ করে সর্বশেষ চন্দ্রনাথমন্দিরে পৌঁছান তীর্থযাত্রীরা। সীতাকুণ্ডে রয়েছে সতীর একান্ন পীঠের একটি ভবানীমন্দির। এ ছাড়া রয়েছে স্বয়ম্ভূনাথমন্দির, ভৈরবমন্দির, সীতামন্দির, জগন্নাথমন্দির ও বিরূপাক্ষমন্দির।
স্রাইন কমিটির সহসম্পাদক সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, পবিত্র ব্যাসকুণ্ডে স্নান করার পর মূল তীর্থ শুরু হয়। অনেকে শুরুতেই ভৈরবমন্দির দর্শন করে চন্দ্রনাথের উদ্দেশে রওনা হন। আবার অনেকে ব্যাসকুণ্ডে মৃত পূর্বপুরুষের আত্মার তৃপ্তির জন্য তর্পণ করেন। এরপর চন্দ্রনাথমন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেন। পাহাড়ের দিকে ২০০ ফুট উঠে হাতের ডানে নিচের দিকে তাকালেই সীতামন্দির। সেটি দর্শন করে স্বস্তিক গেট পার হয়ে ডান পাশের সিঁড়ি বেয়ে কিছু দূর উঠলেই ভবানীমন্দির। তার কিছুটা ওপরে স্বয়ম্ভুনাথমন্দির। এ চার মন্দির দর্শন শেষে আরও ওপরে একে একে জগন্নাথমন্দির, বিরূপাক্ষমন্দির ও চন্দ্রনাথমন্দির পাওয়া যাবে।
তীর্থ উন্নয়ন উপকমিটির আহ্বায়ক উত্তম কুমার শর্মা গণমাধ্যমকে বলেন, এবার চন্দ্রনাথমন্দিরের প্রবেশপথ ও আঙিনা পাকা করা হয়েছে। চন্দ্রনাথমন্দির থেকে নামার পথে নতুন সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য ১০২টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার পথে অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ, পথ প্রশস্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রেলিং লাগানোসহ নানা সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রতিবছর স্রাইন কমিটির প্রধান কার্যালয় মোহন্ত আস্তান বাড়িতে বৈদিক সম্মেলন ও ঋষি সমাবেশ করা হতো। সম্মেলনে ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা করতেন আগত সন্ন্যাসীরা। আয়োজন করা হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। কিন্তু এবার এ অনুষ্ঠানের কিছুটা পরিবর্তন করেছে স্রাইন কমিটি। এবার বৈদিক সম্মেলন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তবে সম্মেলনস্থলে দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের থাকা ও প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্রাইন কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, এবার দূরদূরান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্য যেখানে বৈদিক সম্মেলন হতো, সে স্থানে ছাউনি করা হবে।
খখ/মো মি


