খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার হিলভিউ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সবুজ ওরফে ‘বার্মা সবুজ’কে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অস্ত্র আইনে রয়েছে মোট ৩৫টি মামলা।
শনিবার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার দুই সহযোগী সুমন খান (৩৮) ও মো. জনিকেও (৩১) আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ‘বার্মা সবুজ’ দীর্ঘদিন ধরে বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, খুলশীসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদা আদায়, জমি দখল এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আধিপত্য বিস্তার করত।
পুলিশ আরও জানায়, বার্মা সবুজকে এর আগেও গত বছরের ২৫ নভেম্বর হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তিনি কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান এবং আবারও অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্মা সবুজ পাঁচ ভাইয়ের একজন। তাদের প্রায় সবাই এলাকার অপরাধ জগতে সক্রিয়। বড় ভাই সামশু ওরফে ‘বার্মা সামশু’র বিরুদ্ধে রয়েছে ১২টি মামলা। সবুজের বিরুদ্ধে ৩৫টি, বার্মা সাইফুলের নামে ২০টি এবং ফাহিমের নামে রয়েছে একটি মামলা। সবচেয়ে ছোট ভাই শাহিনের নামে এখনো কোনো মামলা না থাকলেও সেও বড় ভাইদের সঙ্গে চলাফেরা করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তাদের বাবা নুরুল আমিন কসাই একসময় মাংস বিক্রির কাজ করতেন। তবে বর্তমানে তারা মোটা অঙ্কের সম্পদের মালিক। বার্মা কলোনি, আলীনগর, ফরেস্ট গেট ও রংপুর কলোনি—এই চারটি এলাকা অলিখিতভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গত ২৭ জুন রাতে বার্মা সবুজের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী দল বায়েজিদ এলাকার মো. ইউসুফের বাসায় হামলা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ছড়ায় এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় পরদিন থানায় মামলা হলে রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার বার্মা সবুজের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
খখ/মো মি


